বাবার জানাজায় যাচ্ছেন না মোজতবা খামেনি, কারণ জানাল ইরান

আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ
বাবার জানাজায় যাচ্ছেন না মোজতবা খামেনি, কারণ জানাল ইরান

নিরাপত্তাজনিত কারণে বাবার জানাজায় অংশ নেবেন না মোজতবা খামেনি।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ইসরাইলের পক্ষ থেকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অব্যাহত হুমকি থাকায় মোজতবা খামেনির জানাজায় উপস্থিত হওয়া নিরাপদ নয়। এ কারণে তিনি রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না।

আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি বলেন, সম্প্রতি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের হুমকির জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম দিন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান কয়েক দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

সরকার জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হবে। এ উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, তেহরানে প্রায় ২ কোটি এবং সারা দেশে সাড়ে ৩ কোটি মানুষ শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উপস্থিতি বাস্তব হলে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজায় অংশ নেওয়া আনুমানিক ১ কোটি ২ লাখ মানুষের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানিয়েছে, খামেনির স্মরণে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইরান ও ইরাকে ছয় দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শেষ বিদায় ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ৬ জুলাই তেহরানে প্রধান শোকযাত্রা আয়োজনের পর ৮ জুলাই মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। পরদিন ইরানের মাশহাদে হযরত ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন