নবজাতকদের জন্য থাই মামান গোল্ড রিং স্কিম, অভিনব উদ্যোগ তামিলনাড়ু সরকারের

বিনোদন প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
নবজাতকদের জন্য থাই মামান গোল্ড রিং স্কিম, অভিনব উদ্যোগ তামিলনাড়ু সরকারের

নবজাতকদের জন্য থাই মামান গোল্ড রিং স্কিম

২০৯

ভারতের তামিলনাড়ুতে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রতিটি নবজাতককে এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের সরকার। ‘থাই মামান গোল্ড রিং স্কিম’ নামে এই নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে রাজ্যের অন্যতম ব্যতিক্রমী সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুকে একটি করে এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি দেওয়া হবে। নবজাতকদের প্রতি রাষ্ট্রের ভালোবাসা, যত্ন ও শুভেচ্ছার প্রতীক হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বছরে প্রায় ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে তামিলনাড়ু সরকার। একই সঙ্গে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের জন্মদিন ২২ জুন ২০২৬ থেকে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুরা এই সুবিধার আওতায় আসবে। তবে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর, তামিল রাজনীতির অন্যতম নেতা সি. এন. আন্নাদুরাই (পেরারিঞার আন্না)-এর জন্মবার্ষিকীতে।

সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে তামিল সংস্কৃতির একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথা, যার নাম ‘থাই মামান সির’। এ প্রথা অনুযায়ী, পরিবারের নবজাতক শিশুকে প্রথম আশীর্বাদ ও উপহার দেন তার মামা। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার প্রতীকীভাবে সেই ‘মামা’র দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রতিটি নবজাতককে সোনার আংটি উপহার দিয়ে পৃথিবীতে স্বাগত জানাবে।

সরকারের ভাষ্য, এই কর্মসূচি শুধু একটি উপহার দেওয়ার উদ্যোগ নয়; বরং এটি নবজাতক ও তাদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক কল্যাণের বার্তা বহন করবে। পাশাপাশি তামিল সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘থাই মামান গোল্ড রিং স্কিম’ ছিল থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম (TVK)-এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ব্যক্তিগতভাবে নবজাতকদের উপহার দিলেও এবার প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগকে একটি স্থায়ী সরকারি কল্যাণ প্রকল্পের রূপ দেওয়া হচ্ছে।

এই ঘোষণার পর তামিলনাড়ুতে প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে জনবান্ধব ও সংস্কৃতিনির্ভর উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ এর আর্থিক ব্যয় ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে সরকারের দাবি, শিশু কল্যাণ ও সামাজিক বার্তা—দুই দিক বিবেচনায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন