ভোটার আইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক হতে পারে, বড় পরিবর্তনের ভাবনায় ইসি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
ভোটার আইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক হতে পারে, বড় পরিবর্তনের ভাবনায় ইসি

ভোটার আইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক হতে পারে, নতুন পরিকল্পনায় নির্বাচন কমিশন

১৫৬

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভোটার আইডি বা এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে সেটি বাধ্যতামূলকভাবে নবায়নের নিয়ম চালু করা হতে পারে। বর্তমানে আইন অনুযায়ী নবায়নের সুযোগ থাকলেও এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে নাগরিকদের পরিচয় আরও নির্ভুলভাবে যাচাই এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে একই জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পরিচয় নিশ্চিত করতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবায় এনআইডির ব্যবহার বাড়ায় হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তাদের মতে, ১৫ বছর একটি দীর্ঘ সময়। এই সময়ের মধ্যে একজন মানুষের মুখের গঠন, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং বায়োমেট্রিক তথ্যের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। বয়স বৃদ্ধির কারণে অনেকের আঙুলের ছাপের মানও আগের মতো থাকে না। আবার কেউ কেউ চিকিৎসাজনিত কারণে বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে জেন্ডার পরিবর্তন করেন। এসব পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় পরিচয় শনাক্তকরণে সমস্যা দেখা দেয় এবং অসাধু চক্র এ সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য হালনাগাদ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অথবা পরে নির্ধারিত ফি দিয়ে নবায়নের আবেদন করা যায়। তবে কোনো নাগরিককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এনআইডি নবায়ন করতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা এখন পর্যন্ত নেই।

অন্যদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে, নাগরিকরা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অথবা কমিশনের অনলাইন সেবার মাধ্যমে এনআইডি নবায়নের আবেদন করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করে সাধারণ অথবা জরুরি—দুই ধরনের আবেদনই করা যায়। অনলাইনে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রশিদের স্ক্যান কপি জমা দিতে হয়, আর সরাসরি আবেদন করলে নির্ধারিত ফরমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমানে যেকোনো নাগরিক প্রয়োজন হলে এনআইডি নবায়নের আবেদন করতে পারেন। পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে, নষ্ট হয়ে গেলে অথবা নতুন কপি প্রয়োজন হলেও আবেদন করা সম্ভব। তবে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নবায়ন বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, সে বিষয়ে কমিশনের ভেতরে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, জমি নিবন্ধন, কর সংক্রান্ত কার্যক্রম, সরকারি ভাতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেবার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্ত। ফলে দীর্ঘ সময় পরপর নাগরিকদের তথ্য হালনাগাদ করা হলে পরিচয় জালিয়াতি কমবে, বায়োমেট্রিক তথ্য আরও নির্ভুল থাকবে এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়বে।

তবে নির্বাচন কমিশন এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। বাধ্যতামূলক নবায়নের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আবেদন পদ্ধতি, ফি, সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আলাদা নির্দেশনা জারি করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হতে পারে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন এনআইডি সেবা সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। অনলাইনে আবেদন ও তথ্য সংশোধনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সেবা আরও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নের বাধ্যতামূলক নিয়ম চালু হলে দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র-নির্বাচন কমিশন (ইসি)

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন