বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং অন্যান্য যানবাহনের জন্য স্মার্ট নাম্বার প্লেট ও আরএফআইডি (RFID) ট্যাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি এবং যানবাহনের তথ্য দ্রুত যাচাইয়ের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অনেক মোটরসাইকেল মালিকের প্রশ্ন থাকে—আরএফআইডি ট্যাগ কীভাবে পাওয়া যায়? এটি কি আলাদা করে কিনতে হয়, নাকি নাম্বার প্লেটের সঙ্গেই দেওয়া হয়? চলুন সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন- রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পর এবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও আসছে এআই প্রযুক্তি
আরএফআইডি ট্যাগ কী?
RFID-এর পূর্ণরূপ হলো Radio Frequency Identification।
এটি একটি ছোট ইলেকট্রনিক চিপ, যেখানে আপনার মোটরসাইকেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত থাকে।
যেমন—
• রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
• মালিকের তথ্য।
• গাড়ির শ্রেণি।
• ফিটনেস ও নিবন্ধনের তথ্য।
• বিআরটিএ ডাটাবেজের তথ্য।
ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ স্ক্যানার বা ক্যামেরা এই তথ্য দ্রুত শনাক্ত করতে পারে।
আরএফআইডি ট্যাগ কোথায় লাগানো হয়?
মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সাধারণত আরএফআইডি ট্যাগ বিআরটিএ অনুমোদিত স্থানে সংযুক্ত করা হয়।
গাড়ির ক্ষেত্রে এটি সাধারণত উইন্ডশিল্ডে (সামনের কাচে) লাগানো হয়।
মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে স্মার্ট রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এটি প্রদান করা হয়।
আরএফআইডি ট্যাগ কীভাবে পাবেন?
বাংলাদেশে আরএফআইডি ট্যাগ আলাদা কোনো দোকান থেকে কিনতে হয় না।
যখন আপনি বিআরটিএর মাধ্যমে নতুন মোটরসাইকেল নিবন্ধন করেন এবং স্মার্ট নাম্বার প্লেটের জন্য আবেদন করেন, তখন নাম্বার প্লেটের সঙ্গে আরএফআইডি ট্যাগও প্রদান করা হয়।
প্রক্রিয়াটি হলো—
• মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।
• বিআরটিএ নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
• স্মার্ট নাম্বার প্লেট প্রস্তুত হলে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়।
• নির্ধারিত বিআরটিএ অফিস থেকে নাম্বার প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংগ্রহ করতে হবে।
অর্থাৎ নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আলাদা করে আরএফআইডি ট্যাগের আবেদন করতে হয় না।
পুরোনো বাইকে RFID ট্যাগ না থাকলে কী করবেন?
অনেক পুরোনো মোটরসাইকেলে এখনো ডিজিটাল স্মার্ট নাম্বার প্লেট লাগানো হয়নি।
সে ক্ষেত্রে—
• নিকটস্থ বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
• স্মার্ট নাম্বার প্লেটের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে হবে।
• প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে স্মার্ট নাম্বার প্লেট সংগ্রহ করতে হবে।
স্মার্ট নাম্বার প্লেটের সঙ্গেই RFID ট্যাগ দেওয়া হবে।
RFID ট্যাগ হারিয়ে গেলে কী করবেন?
যদি RFID ট্যাগ নষ্ট, হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়, তাহলে—
• নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে।
• বিআরটিএ অফিসে আবেদন করতে হবে।
• প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
• নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে পুনরায় RFID ট্যাগ সংগ্রহ করা যাবে।
RFID ট্যাগের সুবিধা কী?
বর্তমানে RFID ট্যাগের মাধ্যমে—
• চোরাই মোটরসাইকেল দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
• রেজিস্ট্রেশন তথ্য যাচাই সহজ হয়।
• ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক হয়।
• ফিটনেস ও কর সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত যাচাই করা যায়।
• ভবিষ্যতে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থায় আরও বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বর্তমানে বিআরটিএ প্রদত্ত স্মার্ট নাম্বার প্লেট এবং RFID ট্যাগই বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদাভাবে RFID ট্যাগ কিনে ব্যবহার করলে সেটি সরকারি ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে না।
তাই RFID ট্যাগ সংগ্রহের জন্য সবসময় বিআরটিএর অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতি।
তথ্যসূত্র: বিআরটিএ (BRTA), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।










