বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যবসা, বিজ্ঞাপন এবং ডিজিটাল কনটেন্টের বিস্তার। তবে এই বিপুল ব্যবহারকারী থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা ঠিক কত টাকা আয় করছে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের খুব একটা ধারণা নেই। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে এমন একটি তথ্য সামনে এসেছে, যা প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ-ChatGPT-এর নতুন ‘Projects’ অপশন কী কাজে লাগে জানেন?
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র ফেসবুকের মাধ্যমেই প্রতি বছর ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করছে মেটা। এই তথ্য তুলে ধরা হয় রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘টেলিকম খাতে নতুন সরকারের ভিশন’ শীর্ষক এক সেমিনারে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।
সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। এই বিশাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠী মেটার জন্য একটি বড় বাজারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্যবসায়িক প্রচারণা, কনটেন্ট বুস্টিং এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী রবির রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান ব্যারিস্টার সাহেদ আলম বলেন, মেটা প্রতি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১৫ ডলার আয় করে থাকে। সেই হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮ হাজার কোটির টাকারও বেশি।
তিনি আরও বলেন, এত বিপুল অঙ্কের আয় হওয়া সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতিতে মেটার দৃশ্যমান অবদান খুব বেশি দেখা যায় না। কারণ প্রতিষ্ঠানটির কোনো বড় ধরনের সরাসরি বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত কার্যক্রম বা কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ বাংলাদেশে নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অংশ নেন। সেখানে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ, ৫জি প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির মাহবুব আনাম জানান, সরকার ৫জি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে কাজ করছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে এই খাতে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের একটি বড় অংশ ফেসবুক ও মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যয় করা হচ্ছে। ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই এখন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে ফেসবুক বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করছে। ফলে বাংলাদেশ মেটার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে।
এদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশে ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার যত বাড়বে, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয়ও তত বৃদ্ধি পাবে। তবে একই সঙ্গে তারা বলছেন, এই খাত থেকে দেশের অর্থনীতি যেন আরও বেশি উপকৃত হতে পারে, সে জন্য উপযুক্ত নীতিমালা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী, এমটব মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার, ফিকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর, বাংলাদেশ কম্পিটিশন কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাসের, বুয়েটের অধ্যাপক ড. লুৎফা আক্তার এবং বাংলালিংকের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান।
বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে মেটার আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই আয় কীভাবে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে প্রশ্নও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ- GPT-5 কিভাবে ChatGPT 4 কে ছাড়িয়ে গেলো? জানুন বিস্তারিত
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!










