দেশের শিক্ষা খাতে ধাপে ধাপে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি আসন্ন অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এ খাতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।
আরও পড়ুন- এআই কি বদলে দেবে শিক্ষা ব্যবস্থা, নাকি কমিয়ে দেবে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি?
মন্ত্রী বলেন, সরকার শুরু থেকেই শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ চেয়েছিল, তবে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
তার ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগে প্রকল্প বাড়াতে হবে। প্রকল্পের কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে ধীরে ধীরে বরাদ্দও বাড়বে।”
দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে জোর
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। বিশেষ করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “টিচার্স ট্রেনিং, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে কীভাবে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হবে, সে বিষয়েও তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন।”
আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে বরাদ্দ
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, গত অর্থবছরে শিক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। এবার তা বেড়ে ২ শতাংশ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগের বরাদ্দের সঙ্গে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, তবে এবার যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে তা সরাসরি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ে সুখবর
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২২ সালের পর থেকে শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর ভাতার অর্থ নিয়মিত বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, “এ খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। কিছু অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে বিনিয়োগ করে নষ্ট করা হয়েছিল। ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”
তিনি জানান, বর্তমানে সরকারের হাতে যে অর্থ রয়েছে, তা দিয়ে আবারও অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্ট কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং খুব শিগগিরই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের পাওনা অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, “শিক্ষকদের কল্যাণ ও অবসর ভাতা চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা এ অর্থ পাবেন।”
শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণা, জিডিপিতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা অবসর ভাতা পুনরায় চালুর আশ্বাস শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্রিফিং
আরও পড়ুন- এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা, ৮ জুনের মধ্যে তথ্য চাইল শিক্ষা বোর্ড










