বাংলাদেশ থেকে আবারও বড় পরিসরে জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগ পেতে পারেন।
আরও পড়ুন-ইতালিতে আরও ৯ হাজার শ্রমিক নিচ্ছে সরকার, নতুন সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
শনিবার দুপুরে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিকল্প কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে বকনা বাছুর বিতরণ উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নেও সরকার দ্রুত অগ্রগতি দেখিয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় নতুন করে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মীর বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনশক্তি রপ্তানি খাত বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা ও বাগান খাতে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি কর্মীরা সেখানে কাজ করছেন। নতুন করে বড় সংখ্যায় শ্রমিক নেওয়া শুরু হলে দেশে বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন জটিলতার কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন করে শ্রমিক নেওয়ার সুযোগ বাড়লে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য তা বড় স্বস্তির খবর হতে পারে।
হুইপ অপু আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি শরীয়তপুরবাসীর উদ্দেশে বলেন, আগামীতে এমন একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নত শরীয়তপুর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে হিংসা-বিদ্বেষের পরিবর্তে থাকবে পারস্পরিক ভালোবাসা ও উন্নয়ন।
অনুষ্ঠানে তিনি মাদকবিরোধী বক্তব্যও দেন। তার ভাষ্য, মাদক এখন দেশের যুবসমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শওকত আরা উর্মি ও ফাহমিদা হক। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে নিবন্ধিত জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাছের প্রজনন মৌসুমে জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি চালু রেখেছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প আয়মুখী প্রকল্প চালু রাখা—দুই ধরনের উদ্যোগই দেশের নিম্নআয়ের মানুষের আর্থিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে তারা বলছেন, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা ও কম খরচ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ অতীতে অতিরিক্ত খরচ ও দালালচক্রের কারণে অনেক কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এখন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে এবং নতুন কর্মী নিয়োগ কবে শুরু হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন বিদেশগামী কর্মী ও সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: শরীয়তপুরে আয়োজিত আলোচনা সভা, জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য ও জনশক্তি খাত সংশ্লিষ্ট তথ্য।
আরও পড়ুন-জাপান কর্মী পাঠাতে সরকার কি কি প্রস্তুতি নিয়েছে










