জাপানে দক্ষ কর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে সামনে রেখে বড় পরিসরে জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী বা SSW ক্যাটাগরির আওতায় জাপানে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই বাজার ধরতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণ জোরদার করা গেলে বাংলাদেশ এই খাতে উল্লেখযোগ্য অংশীদার হতে পারবে।
আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে ১০৩৫ জন নিয়োগ এসএসসি পাসেই আবেদন করার সুযোগ
সরকারি সূত্র মতে, জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে এমন জনশক্তি তৈরি করা, যারা জাপানের কাজের পরিবেশ, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে সক্ষম হবে। এ জন্য ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জাপানি ভাষা শেখানোর জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি এর অধীনে ৫৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে (টিটিসি) জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু রয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি টিটিসিতে অনলাইন বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে ২০০টির বেশি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো এবং জাপান থেকে প্রশিক্ষক আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষণের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা যায়।
শুধু ভাষা শিক্ষা নয়, জাপানের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি দক্ষতা গড়ে তুলতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি স্কিল ট্রেনিং সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া টিটিসিগুলোকে জাপানি মানে উন্নীত করতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ চলছে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা সরাসরি জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।
জাপানে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংস্কার আনা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য ৯৫টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট কাজ করছে। পাশাপাশি আগে যে ১৫ লাখ টাকা জমা রাখার শর্ত ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে, ফলে নতুন এজেন্সিগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশ সহজ হয়েছে।
জাপানভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একজন কনস্যুলার কর্মকর্তা, সহায়ক কর্মী এবং স্থানীয় জাপানি নাগরিকও রয়েছেন। এর ফলে স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা বোঝা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি বিশেষ “জাপান সেল” চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সেলের মাধ্যমে জাপান সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে এবং আলাদা ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে আগ্রহী প্রার্থীরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন।
সরকার শিক্ষার্থী পাঠানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী জাপানে গেলেও ২০২৬ সালে এই সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা চালু করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা জাপানে পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পাবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জাপানের মতো উন্নত দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে শুধু দক্ষতা নয়, শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠা এবং সংস্কৃতিগত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও জরুরি। তাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এসব বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় শ্রমবাজার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যেখানে দক্ষ কর্মীদের জন্য উচ্চ বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জাপানে জনশক্তি পাঠাতে সরকার বহুমুখী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, যা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে।
আরও পড়ুন-জাপানে ১৬ খাতে কর্মী নিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখের বেশি জনশক্তির বড় সুযোগ
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








