ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দেশের মোট ১০ হাজার ৫৬৮টি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। আগামী ৬ মাসের মধ্যেই এই সুবিধা চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
আরও পড়ুন-চারদিন ইন্টারনেটে ধীরগতি, নির্দিষ্ট সময়ে বিঘ্নের আশঙ্কা
প্রথম ধাপে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদরাসায় ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পড়াশোনা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সহজে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ করছে। এর অংশ হিসেবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য আলাদা ডিজিটাল পরিচয় ‘এডু-আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মাদরাসা শিক্ষায়ও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করে মাদরাসা শিক্ষার্থীরাও যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে এবং তরুণরা কর্মমুখী শিক্ষায় আগ্রহী হবে।
এদিকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে Bangladesh Computer Council (বিসিসি) বিভিন্ন আধুনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাগ্রিকালচার ইনটেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণে আরও এগিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর এই উদ্যোগ শুধু ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি দেশের শিক্ষা খাতকে ডিজিটাল যুগের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু: দাম, স্পিড, সুবিধা
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









