নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর অনেক সময় বিভিন্ন কাজে ভোটার প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হয়। সরকারি চাকরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পাসপোর্ট আবেদন বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে এই প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হতে পারে। এখন নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে বসেই নতুন ভোটার প্রত্যয়ন আবেদন করা যায়।
ডিজিটাল সেবার আওতায় বর্তমানে অনলাইনে আবেদন, তথ্য যাচাই এবং সনদ সংগ্রহ প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। তবে আবেদন করার সময় সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন-অনলাইনে ই-ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম(আবেদন, কাগজপত্র ও খরচ)
নতুন ভোটার প্রত্যয়ন কী
নতুন ভোটার প্রত্যয়ন হলো একটি অফিসিয়াল সনদ, যা প্রমাণ করে যে আবেদনকারী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাওয়ার আগে বা তথ্য যাচাইয়ের জন্য এই সনদ প্রয়োজন হতে পারে।
এটি সাধারণত স্থানীয় নির্বাচন অফিস বা অনুমোদিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
অনলাইনে নতুন ভোটার প্রত্যয়ন আবেদন করার ওয়েবসাইট
আবেদন করতে হবে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে:
গুগলে “eprottoyon” লিখে সার্চ করলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পাওয়া যায়। আবেদন করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনি সঠিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছেন।
ধাপে ধাপে নতুন ভোটার প্রত্যয়ন অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
ধাপ ০১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ
-
গুগলে সার্চ করুন: eprottoyon
-
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
-
হোমপেজ থেকে রেজিস্টার বা লগইন অপশন নির্বাচন করুন।
ধাপ ০২: নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি
যদি আগে অ্যাকাউন্ট না থাকে:
-
“Register” অপশনে ক্লিক করুন।
-
আপনার পূর্ণ নাম লিখুন।
-
মোবাইল নম্বর প্রদান করুন।
-
ইমেইল (যদি প্রযোজ্য হয়)।
-
পাসওয়ার্ড সেট করুন।
-
OTP ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
ভেরিফিকেশন শেষ হলে আপনার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হবে।
ধাপ ০৩: প্রোফাইল সম্পূর্ণ করা
লগইন করার পর—
-
প্রোফাইল মেনুতে প্রবেশ করুন।
-
ব্যক্তিগত তথ্য হালনাগাদ করুন।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর প্রদান করুন।
-
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা যুক্ত করুন।
সঠিক তথ্য না দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
ধাপ ০৪: সনদের জন্য আবেদন নির্বাচন
-
প্রোফাইলের মেনু থেকে “সনদের জন্য আবেদন” অপশন নির্বাচন করুন।
-
ডানদিকে বিভিন্ন সনদের তালিকা দেখতে পাবেন।
-
সেখান থেকে “নতুন ভোটার প্রত্যয়ন” নির্বাচন করুন।
এরপর আবেদন ফরম চালু হবে।
ধাপ ০৫: আবেদন ফরম পূরণ
ফরমে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো দিতে হয়—
-
পূর্ণ নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
-
পিতা-মাতার নাম
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
-
জন্মতারিখ
-
ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য
-
বর্তমান ঠিকানা
-
মোবাইল নম্বর
সব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মিলিয়ে দিতে হবে।
ধাপ ০৬: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড
কিছু ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট আপলোড করতে হতে পারে:
-
জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান কপি।
-
আবেদনকারীর ছবি।
-
প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পরিচয়পত্র।
ছবি ও কাগজপত্র পরিষ্কার ও নির্ধারিত সাইজে আপলোড করতে হবে।
ধাপ ০৭: আবেদন সাবমিট
-
সব তথ্য পুনরায় যাচাই করুন।
-
বানান ভুল আছে কিনা দেখুন।
-
“Submit” বাটনে ক্লিক করুন।
সাবমিট করার পর একটি আবেদন নম্বর প্রদান করা হবে। এটি সংরক্ষণ করতে হবে।
ধাপ ০৮: আবেদন স্ট্যাটাস ট্র্যাক
-
লগইন করে ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করুন।
-
“আমার আবেদন” বা “Application Status” অপশন নির্বাচন করুন।
-
আবেদন কোন পর্যায়ে আছে তা দেখতে পাবেন।
স্ট্যাটাস হতে পারে:
-
Pending
-
Under Review
-
Approved
-
Rejected
ধাপ ০৯: প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ
আবেদন অনুমোদিত হলে—
-
অনলাইন থেকে ডাউনলোডযোগ্য কপি পাওয়া যেতে পারে।
অথবা -
নির্ধারিত অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হতে পারে।
সাধারণত অনুমোদনের পর সনদ ব্যবহারযোগ্য হয়।
আবেদন করার সময় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সঠিকভাবে দিন।
-
মোবাইল নম্বর সক্রিয় থাকতে হবে।
-
OTP অন্য কারও সাথে শেয়ার করবেন না।
-
ভুয়া তথ্য প্রদান করবেন না।
-
আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।
নতুন ভোটার প্রত্যয়ন কোথায় ব্যবহার করা যায়
এই সনদ প্রয়োজন হতে পারে—
-
সরকারি চাকরির আবেদন।
-
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি।
-
পাসপোর্ট আবেদন।
-
ব্যাংকিং যাচাই।
-
প্রশাসনিক ভেরিফিকেশন।
এটি ভোটার নিবন্ধনের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অনলাইনে আবেদন না করলে করণীয়
যদি অনলাইনে আবেদন করতে অসুবিধা হয়—
-
স্থানীয় নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে সরাসরি আবেদন করুন।
তবে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সময় সাশ্রয়ী।
নিরাপত্তা সতর্কতা
-
শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
-
দালাল এড়িয়ে চলুন।
-
ব্যক্তিগত তথ্য অযথা শেয়ার করবেন না।
-
পাসওয়ার্ড গোপন রাখুন।
উপসংহার
নতুন ভোটার প্রত্যয়ন এখন অনলাইনে সহজেই আবেদন করা যায়। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন, প্রোফাইল সম্পূর্ণ করা, সনদ নির্বাচন ও তথ্য পূরণ করে আবেদন সাবমিট করলে দ্রুত প্রত্যয়নপত্র পাওয়া সম্ভব। সঠিক তথ্য প্রদান ও আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করলে পুরো প্রক্রিয়া ঝামেলামুক্তভাবে সম্পন্ন হয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-অনলাইনে ই-ট্রেড লাইসেন্স যাচাই করার নিয়ম(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










