বিকাশে ৬ মাসের DPS! মাসে মাসে টাকা জমিয়ে মেয়াদ শেষে পাবেন আকর্ষণীয় মুনাফা
বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ৬ মাস মেয়াদি মাসিক ডিপিএস খোলার সুবিধা।
সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে এখন অনেকেই ব্যাংকে যাওয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে ডিপিএস বা সঞ্চয় পরিকল্পনা বেছে নিচ্ছেন। বিকাশ অ্যাপেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাসিক ডিপিএস খোলার সুবিধা রয়েছে। বিকাশের বর্তমান অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, মাসিক ডিপিএসের মেয়াদ ৬, ১২, ২৪, ৩৬ ও ৪৮ মাস পর্যন্ত হতে পারে। মাসিক ডিপিএস সাধারণভাবে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করার সুযোগ থাকলেও নির্দিষ্ট মেয়াদ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য জমার পরিমাণ আলাদা হতে পারে। তাই ৬ মাসের ডিপিএস খোলার সময় অ্যাপে প্রদর্শিত নির্দিষ্ট স্কিম ও শর্ত দেখে নেওয়া জরুরি।
বিকাশের মাধ্যমে মাসিক ডিপিএস মূলত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খোলা হয়। বর্তমানে বিকাশের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, মাসিক ডিপিএসের সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং সিটি ব্যাংকের সিটি ইসলামিক পিএলসির মতো প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। গ্রাহক বিকাশ অ্যাপ থেকেই পছন্দের স্কিম নির্বাচন করে ডিপিএস শুরু করতে পারেন।
৬ মাস মেয়াদি মাসিক ডিপিএসের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব প্রতিষ্ঠানে একই অঙ্কের মাসিক কিস্তি বা একই মুনাফার হার প্রযোজ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে বিকাশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিছু ৬ মাস মেয়াদি স্কিমে মাসে ২ হাজার, ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ২০ হাজার টাকা জমার অপশন রয়েছে। আবার অন্য মেয়াদে জমার পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। ফলে শুধু “মাসে ৫০০ টাকা” দেখে ৬ মাসের প্রতিটি ডিপিএসে একই সুবিধা পাওয়া যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
মুনাফার বিষয়টিও গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশের মাধ্যমে খোলা ডিপিএসের মুনাফা বা সুদের হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে। অর্থাৎ বিকাশে ডিপিএস খুললেই সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে না। ডিপিএস খোলার সময় অ্যাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্কিম, মুনাফার হার, মোট জমা এবং মেয়াদ শেষে সম্ভাব্য প্রাপ্য অর্থের তথ্য দেখানো হতে পারে। তাই ডিপিএস নিশ্চিত করার আগে এসব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
ধরা যাক, কোনো নির্দিষ্ট ৬ মাসের স্কিমে মাসে ২ হাজার টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাহলে ছয় মাসে মূল জমার পরিমাণ হবে ১২ হাজার টাকা। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী অর্জিত মুনাফা যোগ হবে। তবে মুনাফার হার, প্রযোজ্য কর ও অন্যান্য সরকারি কর্তনের কারণে হাতে পাওয়া চূড়ান্ত অর্থ মূল জমার সঙ্গে সরাসরি যোগ করে অনুমান করা ঠিক নয়। বিকাশের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত আইন অনুযায়ী এআইটি ও আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে।
বিকাশ অ্যাপ থেকে ৬ মাস মেয়াদি মাসিক ডিপিএস খোলার প্রক্রিয়াও বেশ সহজ। প্রথমে বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘Savings’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ‘Open New Savings’ নির্বাচন করে সেভিংসের ধরন থেকে ‘DPS’ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ‘Islamic DPS’ বেছে নিতে হবে। এরপর সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য নির্বাচন করে ৬ মাসের মেয়াদ এবং মাসিক ডিপিএস নির্বাচন করতে হবে। তারপর নির্ধারিত মাসিক জমার পরিমাণ ও পছন্দের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্কিম বেছে নিয়ে নমিনির তথ্য দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে শর্তাবলিতে সম্মতি দিয়ে বিকাশ পিনের মাধ্যমে ডিপিএস খোলার অনুরোধ সম্পন্ন করা যায়।
ডিপিএস চালু হওয়ার পর প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রাখা প্রয়োজন। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে ডিপিএসের কিস্তির টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলে কিস্তি সংগ্রহে সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়মিত কিস্তি দেওয়ার জন্য নির্ধারিত তারিখের আগে বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় টাকা রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
৬ মাস মেয়াদ শেষে ডিপিএসের মূল জমার সঙ্গে প্রযোজ্য মুনাফা যোগ করে অর্থ গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। বিকাশ জানিয়েছে, মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ ডিপিএসের অর্থ ক্যাশ আউট করলে সংশ্লিষ্ট ক্যাশ আউট খরচ বিকাশের মাধ্যমে অফসেট করা হয়। অর্থাৎ ম্যাচিউরিটির অর্থ বিকাশ অ্যাকাউন্টে আসার পর নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী ক্যাশ আউট সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ডিপিএস বন্ধ করতে চাইলে প্রত্যাশিত সম্পূর্ণ মুনাফা নাও পাওয়া যেতে পারে। বিকাশের বর্তমান শর্ত অনুযায়ী, ডিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বন্ধ করলে অর্জিত মুনাফার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের আগে ডিপিএস বাতিল করা যায় না। তাই অল্প সময়ের মধ্যে টাকার প্রয়োজন হতে পারে এমন হলে ডিপিএস খোলার আগে এর আগাম বন্ধের নিয়ম জেনে নেওয়া ভালো।
সব মিলিয়ে, নিয়মিত অল্প অল্প করে টাকা জমাতে চাইলে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ৬ মাস মেয়াদি মাসিক ডিপিএস একটি ডিজিটাল সঞ্চয় পদ্ধতি হতে পারে। তবে ৬ মাসের ডিপিএসে কত টাকা মাসে জমা দিতে হবে, মুনাফার হার কত এবং মেয়াদ শেষে মোট কত টাকা পাওয়া যাবে—এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট স্কিম ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে। তাই ডিপিএস খোলার আগে বিকাশ অ্যাপে দেখানো সর্বশেষ শর্ত, মুনাফার হার, কিস্তির পরিমাণ এবং প্রযোজ্য কর বা সরকারি কর্তন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
