পাসপোর্ট অফিসে দলিল লেখকের মতো নিবন্ধিত সহায়তাকারী রাখার পরিকল্পনা সরকারের
পাসপোর্ট সেবাকে আরও সহজ ও ভোগান্তিমুক্ত করতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পাসপোর্ট অফিসে দলিল লেখকের মতো কিছু নির্দিষ্ট ও নিবন্ধিত লোক রাখা হবে, যারা আবেদনকারীদের কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে সহায়তা করবেন। এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমবে এবং সেবার গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখোমুখি হন সাধারণ মানুষ কাগজপত্র সংক্রান্ত জটিলতায়। অনেকেই সঠিকভাবে ফর্ম পূরণ করতে পারেন না, আবার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ঘাটতির কারণে বারবার পাসপোর্ট অফিসে যেতে হয়। এই সমস্যার সমাধানেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রশিক্ষিত ও নিবন্ধিত সহায়তাকারীরা আবেদনকারীদের সঠিকভাবে নির্দেশনা দেবেন।
বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে বাধ্য হন। নতুন এই ব্যবস্থায় সরকার নির্ধারিত নিবন্ধিত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে কাজ করবেন, ফলে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা কমবে। এতে করে পাসপোর্ট প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, এই নিবন্ধিত সহায়তাকারীরা মূলত আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং আবেদনকারীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ করবেন। তবে তারা কোনোভাবেই সরকারি কাজের অংশ হবেন না, বরং সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। এর ফলে পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
এছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিবন্ধনের মাধ্যমে এই কাজে যুক্ত হতে পারবেন এবং নির্ধারিত ফি গ্রহণ করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন জনগণ সহজে সেবা পাবেন, অন্যদিকে বেকারদের জন্য একটি নতুন আয়ের পথ তৈরি হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে পাসপোর্ট সেবা অনেকটাই আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠবে। তবে এর জন্য কঠোর তদারকি ও সঠিক নীতিমালা প্রয়োজন, যাতে কোনোভাবেই নতুন করে দালালচক্র তৈরি না হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পাসপোর্ট অফিসে নিবন্ধিত সহায়তাকারী রাখার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।