বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর মধ্যে Nagad বর্তমানে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন ব্যবহারকারী এই সেবার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে অনেকেই প্রথমবার একাউন্ট খোলার পর একটি সাধারণ প্রশ্ন করেন—নগদ একাউন্ট কীভাবে দেখবো, ব্যালেন্স চেক করবো বা লেনদেনের হিসাব জানবো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা থাকলে খুব সহজেই ঘরে বসে নিজের একাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন-বিকাশ রকেট ও নগদে এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না নির্বাচন সামনে রেখে নির্দেশনা
বর্তমানে নগদ একাউন্ট দেখার জন্য মূলত দুটি পদ্ধতি রয়েছে—ডায়াল কোড (USSD) ব্যবহার এবং মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার। সাধারণ ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ডায়াল কোড সবচেয়ে সহজ, আর স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপই সবচেয়ে সুবিধাজনক মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডায়াল কোডের মাধ্যমে নগদ একাউন্ট দেখার জন্য ব্যবহার করতে হয় *167#। এটি নগদের অফিসিয়াল USSD কোড, যার মাধ্যমে একাউন্টের প্রায় সব ধরনের তথ্য জানা যায়। প্রথমে নিজের নগদ সিমটি ফোনে চালু করে ডায়াল করতে হবে *167#। এরপর স্ক্রিনে একটি মেনু আসবে, যেখানে “My Nagad” অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর “Balance Enquiry” অপশনে গিয়ে নিজের ৪ সংখ্যার পিন নম্বর দিলেই মুহূর্তের মধ্যে ব্যালেন্স দেখা যাবে। এই পদ্ধতিতে ইন্টারনেট ছাড়াই যেকোনো সাধারণ ফোন থেকে খুব সহজেই একাউন্ট চেক করা সম্ভব।
অন্যদিকে, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নগদ অ্যাপ একটি আধুনিক ও সহজ সমাধান। গুগল প্লে স্টোর থেকে নগদ অ্যাপ ইনস্টল করে মোবাইল নম্বর ও পিন দিয়ে লগইন করলে সরাসরি ড্যাশবোর্ডে একাউন্টের ব্যালেন্স দেখা যায়। শুধু ব্যালেন্সই নয়, অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন ইতিহাস, ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, মোবাইল রিচার্জসহ সব ধরনের তথ্য বিস্তারিতভাবে দেখা সম্ভব।
এছাড়া অনেক সময় ব্যবহারকারীরা তাদের নগদ একাউন্টের নম্বর ভুলে যান। এক্ষেত্রে খুব সহজেই নিজের মোবাইল নম্বরটি ডায়াল করে বা *2# ব্যবহার করে তা জানা যায়। কারণ নগদ একাউন্ট মূলত মোবাইল নম্বরের সঙ্গেই সংযুক্ত থাকে।
নগদ একাউন্টের লেনদেন বা স্টেটমেন্ট দেখার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা রয়েছে। ডায়াল কোড ব্যবহার করে “Mini Statement” অপশন নির্বাচন করলে গত এক মাসের লেনদেন দেখা যায়। আবার অ্যাপ ব্যবহার করলে আরও বিস্তারিতভাবে তিন মাস পর্যন্ত লেনদেন হিসাব দেখা সম্ভব।
তবে অনেক সময় ব্যবহারকারীরা পিন নম্বর ভুলে যান, যা একটি সাধারণ সমস্যা। এ ক্ষেত্রে *167# ডায়াল করে “Pin Reset” অপশন ব্যবহার করে খুব সহজেই নতুন পিন সেট করা যায়। এজন্য এনআইডি নম্বর, জন্ম সাল এবং সাম্প্রতিক লেনদেনের তথ্য দিতে হয়। সব তথ্য সঠিক হলে নতুন পিন সেট করে আবার একাউন্ট ব্যবহার করা যাবে।
নগদ ব্যবহারকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা। কখনোই নিজের পিন নম্বর অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। এছাড়া অপরিচিত কল বা লিংকে নিজের একাউন্ট তথ্য দিলে প্রতারণার ঝুঁকি থাকে। তাই সবসময় অফিসিয়াল মাধ্যম ব্যবহার করা জরুরি।
বর্তমানে সরকারি ভাতা, উপবৃত্তি, মোবাইল রিচার্জ, বিল পেমেন্টসহ বিভিন্ন কাজে নগদ ব্যবহার হচ্ছে। ফলে নিজের একাউন্টের তথ্য নিয়মিত চেক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে যেমন অর্থের হিসাব ঠিক থাকে, তেমনি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত লেনদেন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও ব্যবহারবান্ধব হয়ে উঠছে। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এই সহজ নিয়মগুলো জানা থাকলে তারা খুব দ্রুতই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেন পরিচালনা করতে পারবেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভিসা কার্ড থেকে সরাসরি বিকাশ পেমেন্ট এখন বাংলাদেশে চালু
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










