ঢাকা শহরের ব্যস্ত জীবনে স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা পেতে সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে হাজারো রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নেন, জরুরি সেবা গ্রহণ করেন কিংবা ইনডোরে ভর্তি থাকেন। তবে প্রথমবার যারা এই হাসপাতালে আসেন, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে—কখন গেলে ডাক্তার পাওয়া যাবে, আউটডোর খোলা থাকে কখন, আর জরুরি বিভাগ কি সবসময় চালু থাকে।
আরও পড়ুন-কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ডাক্তার দেখানোর নিয়ম জানুন সহজ ধাপে
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আউটডোর বিভাগ সাধারণত সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকে, তবে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে আউটডোর বন্ধ থাকে। প্রতিদিন সকালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় অনেক সময় দুপুরের আগেই নতুন রোগী নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাই রোগী দেখাতে চাইলে সকাল ৮টার আগেই হাসপাতালে পৌঁছানোকে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে, জরুরি বিভাগ হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। দিন-রাত যেকোনো সময় দুর্ঘটনা, শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা প্রসবজনিত জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের সরাসরি জরুরি বিভাগে নেওয়া যায়। এমনকি শুক্রবার বা সরকারি ছুটির দিনেও এই সেবা বন্ধ থাকে না, যা রোগীদের জন্য বড় একটি স্বস্তির বিষয়।
ইনডোর বা ভর্তি রোগীদের জন্য সেবাও সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে। ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা, নার্সিং সেবা এবং ওয়ার্ড কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টাই পরিচালিত হয়। তবে রোগী দেখার জন্য স্বজনদের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হয়। সাধারণত দুপুর ১টা থেকে ২টা এবং বিকাল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য সময় নির্ধারণ করা থাকে, যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।
আউটডোরে চিকিৎসা নিতে হলে প্রথমেই টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। টিকিট কাউন্টার সাধারণত সকাল সাড়ে ৭টা থেকে খোলা শুরু হয় এবং সকালেই এখানে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সীমিত সংখ্যক টিকিট বিতরণ করা হয় বলে দেরি করলে অনেক সময় রোগী টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
হাসপাতালটিতে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনী ও প্রসূতি, শিশু বিভাগ, অর্থোপেডিক, চর্মরোগ, নাক-কান-গলা এবং চোখসহ বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। বিভাগভেদে ডাক্তার দেখানোর সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরেই বিভিন্ন ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা রয়েছে, যেখানে সাধারণ পরীক্ষা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত করা হয় এবং জরুরি রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সকালে আগে আসা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা, লাইনে ধৈর্য ধরা এবং দালালদের এড়িয়ে চলার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে সরাসরি জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সময়সূচি আগে থেকে জানা থাকলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যায়। সঠিক সময় নির্বাচন এবং নিয়ম মেনে চললে কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব এই সরকারি হাসপাতালে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ফোন নাম্বার
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









