অবরোধের আগে জেলের জালে ২ কেজির ইলিশ, বিক্রি ৭ হাজার ২৫০ টাকায়
নিষেধাজ্ঞার আগে জেলের জালে মিলল ২ কেজির ইলিশ
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহেল খানের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ওজনের একটি বড় আকারের ইলিশ। পরে কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে মাছটি বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ২৫০ টাকায়। নিষেধাজ্ঞার আগে বড় এই ইলিশ ধরা পড়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন জেলে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোররাতে কুয়াকাটার বাংলার ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় খুঁটো জালে ইলিশটি ধরা পড়ে। সকাল ১০টার দিকে জেলে সোহেল খান মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। পরে নিলামে কুয়াকাটা ঘরামী ফিশের পরিচালক জয়লান ঘরামী মাছটি কিনে নেন।
জেলে সোহেল খান জানান, প্রায় ৯ থেকে ১০ বছর ধরে উপকূলের কাছাকাছি খুঁটো জাল দিয়ে মাছ ধরছেন তিনি। জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে বড় ইলিশটি উঠে আসে। নিলামে মাছটি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে ৩ হাজার ৬২৫ টাকা এবং ২ কেজি মাছটির মোট দাম হয় ৭ হাজার ২৫০ টাকা।
তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এবার এত বড় ইলিশ পেয়েছেন। তবে উপকূলের কাছাকাছি আগের তুলনায় মাছ কমে গেছে। ট্রলিং জাল দিয়ে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ আহরণ এবং গুঁড়া মাছ ধরার কারণে সাগরে মাছের পরিমাণ কমছে বলে মনে করেন তিনি।
সোহেল খান আরও বলেন, ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এর আগে বড় এই ইলিশটি পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জাল গুটিয়ে বাড়িতে ফিরতে হবে এবং ওই সময়টিতে জেলেদের কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হবে।
কুয়াকাটা ঘরামী ফিশের পরিচালক জয়লান ঘরামী বলেন, বড় ইলিশ এখন বাজারে খুব কম পাওয়া যায়। তাই নিলামের মাধ্যমে মাছটি কেনা হয়েছে। মাছটি বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, বর্তমানে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কঠিন। আগে বছরে এক-দুবার ঘরে ইলিশ উঠলেও এখন সেটি অনেকটা স্বপ্নের মতো হয়ে গেছে।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বাবু জানান, বড় ইলিশ বেশি দামে কিনলে পর্যটকদের কাছেও বেশি দামে পরিবেশন করতে হয়। তাই তারা সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম, সর্বোচ্চ এক কেজি ওজনের ইলিশ তুলনামূলক কম দামে কিনে পর্যটকদের পরিবেশন করেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশের অযাচিত আহরণ, নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইস গেটের কারণে অভিবাসনে বাধা, অবৈধ জাল, পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনের কারণে বড় ইলিশের সংখ্যা কমছে।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া ভালো খবর এবং এটি ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের সুফলও হতে পারে। তিনি জানান, ৮ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ৬ অক্টোবর থেকে কলাপাড়া, আলীপুর, মহিপুর, আশাখালী, দুলাসার, চাপলী ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, কলাপাড়া উপজেলার নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩৬৪ জন জেলের জন্য ৪৫৯ দশমিক ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে। প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদী ও সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
