চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও ঝুলে আছে ১৪ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ
নেত্রবাংলা অনলাইন ডেস্কঃ
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও দুই মাস ধরে যোগদানের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে এখনো নিয়োগপত্র পাননি তারা।
এ নিয়ে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন হতাশ প্রার্থীরা।
সুপারিশপ্রাপ্তদের দাবি, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর মেডিক্যাল চেকআপ ও ডোপ টেস্টসহ সব আনুষ্ঠানিকতা তারা নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন করেছেন। এরপরও যোগদানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তারা চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
তাদের ভাষ্য, সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে যোগদান না হওয়ায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে। গোপনে ভেরিফিকেশন চলছে—এমন নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোয় অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিলম্বের কারণে অনেক প্রার্থী আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ আগের চাকরি ছেড়ে এখন বেকার। আবার অনেকের বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্য কোনো সরকারি চাকরির সুযোগও নেই।
প্রার্থীরা মনে করছেন, দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হলে শুধু তাদের নয়, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, “দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক অপরিহার্য। তাই আমাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।”
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্থবিরতাই মূল বাধা। পাশাপাশি কিছু অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগও উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, এখনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয় এবং জেলাভিত্তিক তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২২ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্বাস্থ্য সনদ ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট জমা দেন প্রার্থীরা। পরে ১ মার্চের মধ্যে সনদ যাচাইসহ সব আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয়।
তবে সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও এখনো চূড়ান্ত নিয়োগপত্র ইস্যু না হওয়ায় যোগদানের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ

আপনার মতামত লিখুন
Array