আবার স্বাভাবিক হলো বিকাশ নগদ রকেটে টাকা পাঠানোর লেনদেন

প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
আবার স্বাভাবিক হলো বিকাশ নগদ রকেটে টাকা পাঠানোর লেনদেন

আবার স্বাভাবিক হয়েছে বিকাশ, নগদ ও রকেটে টাকা পাঠানোর লেনদেন।

বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে টাকা পাঠানোর লেনদেন আবার স্বাভাবিক হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থের অপব্যবহার ও অবৈধ অর্থ স্থানান্তর ঠেকাতে চার দিনের জন্য এসব সেবায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের পর থেকে ওই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে গ্রাহকেরা আগের নিয়মে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পি-টু-পি লেনদেন করতে পারছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এমএফএসের ব্যক্তিগত হিসাবে বিশেষ সীমা কার্যকর ছিল। এ সময়ে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ এমএফএস সেবায় একজন গ্রাহক একবারে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা অন্য ব্যক্তির কাছে পাঠাতে পেরেছেন। পাশাপাশি দিনে সর্বোচ্চ ১০টি পি-টু-পি লেনদেনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ, একজন গ্রাহক এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ পাঠাতে পেরেছেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর এই বিশেষ সীমাও আর কার্যকর নেই।

নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থের অবৈধ ব্যবহার ও লেনদেনের অপব্যবহার ঠেকাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সাময়িক ব্যবস্থা নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় এমএফএস এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবির আওতাধীন ইন্টারনেট ব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফার (আইবিএফটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তরের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। একই সময়ে এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে লেনদেনের ওপর নিবিড় নজরদারি এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ৯৬ ঘণ্টার এই বিধিনিষেধের সময় এমএফএসের সব ধরনের সেবা বন্ধ রাখা হয়নি। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের লেনদেন চালু রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ দোকান বা প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটার পেমেন্ট, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা অন্যান্য অনুমোদিত বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম বহাল ছিল। ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধে গ্রাহকেরা এমএফএস ব্যবহার করতে পেরেছেন।

বিধিনিষেধের ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে। অনেক গ্রাহককে জরুরি প্রয়োজনে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাতে গিয়ে একবারে ১ হাজার টাকার সীমার মধ্যে লেনদেন করতে হয়েছে। দৈনিক ১০টি লেনদেনের সীমাও অনেকের জন্য বাড়তি অসুবিধা তৈরি করে। বিশেষ করে যেসব পরিবার বা ব্যক্তি নিয়মিতভাবে এমএফএসের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো বা গ্রহণের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের স্বাভাবিক লেনদেন সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে যায়। তবে নির্বাচনকেন্দ্রিক অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সীমাবদ্ধতা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বহাল ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ওই সময় এমএফএস-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ‘কুইক রেসপন্স সেল’ গঠনের কথাও বলা হয়েছিল। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ধরনের লেনদেন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোনো লেনদেন সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক মনে হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করার কথাও জানানো হয়েছিল। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতা করতে বলা হয়।

নির্ধারিত ৯৬ ঘণ্টা শেষ হওয়ার পর এসব বিশেষ বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের স্বাভাবিক লেনদেন ব্যবস্থা ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে সাময়িকভাবে সীমিত থাকা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের পি-টু-পি অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থাও স্বাভাবিক হয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে অর্থ পাঠানো, পরিবারের সদস্যদের টাকা দেওয়া কিংবা নিয়মিত আর্থিক লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বাভাবিক সুবিধা পুনরায় নিশ্চিত হয়েছে।

বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বর্তমানে মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। টাকা পাঠানো ও গ্রহণের পাশাপাশি কেনাকাটার পেমেন্ট, বিভিন্ন বিল পরিশোধসহ নানা ধরনের আর্থিক সেবায় এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহৃত হয়। তাই চার দিনের বিশেষ বিধিনিষেধ শেষে স্বাভাবিক লেনদেন চালু হওয়ায় নিয়মিত এমএফএস ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্বাভাবিক লেনদেনের পাশাপাশি গ্রাহকদেরও নিরাপদে অর্থ লেনদেন এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক নম্বরে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page