বিকাশে এখন মিলবে ৫০ হাজার টাকা ঋণ জানুন যোগ্যতা ও নেওয়ার নিয়ম

প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
বিকাশে এখন মিলবে ৫০ হাজার টাকা ঋণ জানুন যোগ্যতা ও নেওয়ার নিয়ম

বিকাশে যোগ্য গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ঋণের সুবিধা আরও বাড়িয়েছে বিকাশ। এখন যোগ্য গ্রাহকেরা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। আগে এই ডিজিটাল ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ৩০ হাজার টাকা। নতুন সীমার ফলে প্রয়োজনের সময় ব্যাংকে না গিয়ে এবং প্রচলিত কাগজপত্র বা জামানত ছাড়াই নির্দিষ্ট গ্রাহকেরা বিকাশ অ্যাপ থেকে ঋণের সুবিধা নিতে পারবেন। এই ঋণসেবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেমন সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয় এবং বিকাশ এখানে পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে কাজ করে।

বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, একজন গ্রাহক ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে প্রত্যেক গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টের অবস্থা, লেনদেনের ধরন, অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অভ্যাস এবং আগের ঋণ পরিশোধের রেকর্ডসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করে। ফলে কারও অ্যাপে ১০ হাজার, কারও ২০ হাজার বা অন্য কোনো সীমা দেখা যেতে পারে।

এই ঋণ পেতে আলাদা করে ব্যাংকে গিয়ে আবেদন বা কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেসব গ্রাহক এই সুবিধার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের বিকাশ অ্যাপে ‘লোন’ আইকন দেখা যাবে। সেখান থেকে অনুমোদিত সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ঋণের পরিমাণ নির্বাচন বা লিখে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। এরপর ঋণের শর্ত, প্রযোজ্য সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং পরিশোধের তথ্য ভালোভাবে দেখে সম্মতি দিতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন ব্যবহার করে ঋণের আবেদন সম্পন্ন করা যায়। অনুমোদন হলে ঋণের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশ অ্যাকাউন্টে যোগ হয়।

তবে বিকাশ অ্যাপে ‘লোন’ অপশন না থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক এই মুহূর্তে ঋণের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারেন। বিকাশ জানিয়েছে, লোন ও পে-লেটার সেবা বর্তমানে নির্দিষ্টসংখ্যক গ্রাহকের জন্য চালু রয়েছে। গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের ব্যবহার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট নীতিমালার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। নিয়মিতভাবে বিকাশের বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করা, অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ব্যালেন্স রাখা এবং অ্যাড মানি, সেভিংস ও পেমেন্টের মতো সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

যেসব গ্রাহকের তথ্য হালনাগাদ প্রয়োজন, তাঁদের বিকাশ অ্যাপের ‘তথ্য হালনাগাদ’ অপশন ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তথ্য আপডেট করতে হতে পারে। বিকাশের FAQ অনুযায়ী, তথ্য হালনাগাদ না থাকলে লোন বা পে-লেটার সেবার জন্য অ্যাকাউন্ট উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই অ্যাপে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেখালে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।

ঋণ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখে অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় ব্যালেন্স থাকলে কিস্তির অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হতে পারে। গ্রাহক চাইলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও ঋণের আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। তবে ঋণ নেওয়ার আগে পরিশোধের সময়সীমা, সুদের হার, প্রসেসিং ফি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত অ্যাপে ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।

বিকাশের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ঋণের ওপর প্রসেসিং ফি ০.৫৭৫ শতাংশ বা ০.৫ শতাংশের সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট। অন্যদিকে সুদের হার গ্রাহকভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং ঋণ নেওয়ার সময় অ্যাপে প্রযোজ্য হার দেখানো হয়। নির্ধারিত সময়ে কিস্তি পরিশোধ না করলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত বা বিলম্বজনিত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। তাই শুধু সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাওয়া যাবে—এ বিষয়টি দেখেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটিও আগে যাচাই করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, বিকাশের ডিজিটাল ঋণের সীমা ৩০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করায় যোগ্য গ্রাহকদের জন্য জরুরি অর্থের প্রয়োজন মেটানোর নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এটি সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত নয়। গ্রাহকের লেনদেনের ইতিহাস, অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ধরন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই যোগ্যতা ও ঋণের সীমা নির্ধারিত হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page