বিকাশ অ্যাপের বড় পরিবর্তন: আপডেটের আগে ও পরে কী কী বদলেছে?

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
বিকাশ অ্যাপের বড় পরিবর্তন: আপডেটের আগে ও পরে কী কী বদলেছে?

বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন ডিজিটাল সেবা ও ফিচার।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ সময়ের সঙ্গে তাদের অ্যাপের ফিচার ও সেবায় একের পর এক পরিবর্তন আনছে। ফলে কয়েক বছর আগের বিকাশ অ্যাপের সঙ্গে বর্তমান অ্যাপের তুলনা করলে ব্যবহারকারীদের জন্য সেবার পরিধিতে বেশ বড় পার্থক্য দেখা যায়। বর্তমানে বিকাশ অ্যাপে শুধু টাকা পাঠানো বা ক্যাশ আউট নয়, সঞ্চয়, লোন, রেমিট্যান্স, শিক্ষা ফি, বিল পরিশোধ, ব্যাংকে টাকা পাঠানো, রিকোয়েস্ট মানি, কার্ড থেকে অ্যাড মানিসহ আরও নানা ধরনের সেবা পাওয়া যাচ্ছে। বিকাশের বর্তমান অ্যাপ পেজেও এসব সেবাকে এক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরা হয়েছে।

আগের বিকাশ অ্যাপের মূল ব্যবহার ছিল মূলত টাকা পাঠানো, ক্যাশ আউট, মোবাইল রিচার্জ ও বিল পরিশোধের মতো প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেনকে সহজ করা। সময়ের সঙ্গে গ্রাহকের চাহিদা বাড়ায় অ্যাপটিও ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিকাশের সেবার তালিকায় Send Money, Mobile Recharge, Payment, Cash Out, Add Money, Pay Bill, Savings, Loan, bKash to Bank, Request Money, Remittance, Education Fee, Donation ও Insurance-এর মতো একাধিক সেবা রয়েছে।

বর্তমান অ্যাপের অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো সঞ্চয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সুযোগ বৃদ্ধি। আগে বিকাশকে মূলত দৈনন্দিন লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হলেও এখন অ্যাপ থেকেই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় স্কিমে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপের মাধ্যমে সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে নিয়মিত সঞ্চয়ের জন্য গ্রাহককে প্রতিবার আলাদা করে ব্যাংকে যেতে হয় না।

অন্যদিকে ডিজিটাল লোন সেবাও বিকাশ অ্যাপের বড় সংযোজনগুলোর একটি। বর্তমানে যোগ্য গ্রাহকরা অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল ন্যানো লোন নেওয়ার সুযোগ পান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল ন্যানো লোন প্ল্যাটফর্ম থেকে মোট বিতরণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং ৩৫ লাখের বেশি গ্রাহক এই সুবিধা নিয়েছেন। তবে লোন পাওয়ার যোগ্যতা সবার জন্য এক নয়; গ্রাহকের লেনদেনের ধরন, KYC তথ্য ও পূর্বের ঋণ পরিশোধের ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।

মোবাইল রিচার্জেও এসেছে নতুন সুবিধা। ২০২৬ সালের মার্চে বিকাশ ও সিটি ব্যাংক যৌথভাবে ‘Pay Later’ সুবিধা চালু করে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্য গ্রাহক জরুরি প্রয়োজনে বিকাশে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলেও মোবাইল রিচার্জ করতে পারেন এবং পরে নির্ধারিত নিয়মে অর্থ পরিশোধ করেন। ফলে আগে যেখানে ব্যালেন্স না থাকলে রিচার্জের জন্য অপেক্ষা করতে হতো, এখন যোগ্য গ্রাহকের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।

Add Money সেবাতেও নিরাপত্তার পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে বিকাশ কার্ড থেকে Add Money করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন করে কোনো Visa, Mastercard বা American Express কার্ড দিয়ে প্রথমবার Add Money করার সময় কার্ডটি বিকাশ অ্যাপে সেভ করার প্রয়োজন হচ্ছে। তবে আগে থেকেই অ্যাপে সেভ করা কার্ডের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মটি প্রযোজ্য নয়। এর লক্ষ্য হলো কার্ডভিত্তিক লেনদেনকে আরও নিরাপদ করা।

বর্তমান বিকাশ অ্যাপের আরেকটি নতুন সংযোজন হলো Game Zone। ২০২৬ সালের জুনে বিকাশ অ্যাপে এই ফিচার যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড না করেই বিকাশ অ্যাপের ভেতর বিভিন্ন ধরনের গেম খেলা এবং অনলাইন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। Game Zone-এ রেসিং, অ্যাকশন, আর্কেড, অ্যাডভেঞ্চার, স্পোর্টস ও পাজলসহ বিভিন্ন ধরনের গেম রয়েছে।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিকাশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোও বড় হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বিকাশ জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক Interoperable Bangla QR স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে QR পেমেন্টের পরিধি বাড়ছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

তবে ‘বড় পরিবর্তন’ বলতে শুধু অ্যাপের চেহারা বা মেনু পরিবর্তন বোঝায় না। বিকাশের নিজস্ব FAQ-তে বলা হয়েছে, নতুন অ্যাপ ভার্সনে সেটিংস থেকে নাম ও ছবি পরিবর্তনের সুবিধা রয়েছে এবং পুরোনো অ্যাপ সীমিত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা গেলেও ভবিষ্যতে নতুন ভার্সনে আপডেট করা প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ নতুন ফিচার ও নিরাপত্তা সুবিধা পেতে অ্যাপটি নিয়মিত আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, আগের তুলনায় বর্তমান বিকাশ অ্যাপ এখন অনেক বেশি সেবা-কেন্দ্রিক। টাকা পাঠানো ও ক্যাশ আউটের মতো মৌলিক সুবিধার পাশাপাশি সঞ্চয়, লোন, ব্যাংক ট্রান্সফার, রেমিট্যান্স, Pay Later, নিরাপদ Add Money, Game Zone এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা যুক্ত হয়েছে। তাই পুরোনো ভার্সনের সঙ্গে বর্তমান বিকাশ অ্যাপের পার্থক্য মূলত সেবার ব্যাপ্তি, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন কাজকে এক অ্যাপে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page