আত্রাইয়ে এক বছর ধরে ভাঙা সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল কয়েক গ্রামের মানুষের
আত্রাইয়ে এক বছর ধরে ভাঙা সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল কয়েক গ্রামের মানুষের
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া ছোটডাঙ্গা বাজার এলাকায় রতনডারি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় এক বছর আগে সেতুটির মাঝের অংশ ভেঙে ধসে গেলেও এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রতিদিনই পথচারী, ভ্যানচালক ও কৃষকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ভাঙা অংশ দিয়ে পার হওয়ার সময় ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে। যেকোনো সময় সেতুটির আরও বড় অংশ ধসে পড়ে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে রতনডারি খালের ওপর সরু এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি দিয়ে উচুল, কাশিমপুর, ঝনঝনিয়া ও ছোটডাঙ্গাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। কৃষিপণ্য পরিবহনসহ স্থানীয়দের দৈনন্দিন যাতায়াতেও সেতুটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রায় এক বছর আগে সেতুটির মাঝের একটি অংশ ভেঙে খালের মধ্যে ধসে পড়ে। পরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কাঠের পাটাতন বসিয়ে কোনোভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেতুটির অন্যান্য অংশেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে বর্তমানে সেতুটি দিয়ে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এছাহক সরকার বলেন, খালের উত্তর পাশে তাদের কৃষিজমি রয়েছে। জমি থেকে ধান কেটে বাড়িতে আনা কিংবা এপার থেকে ওপারে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল নেওয়ার সময় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি জানান, গত সপ্তাহে লিটন নামে এক ব্যক্তির প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু সেতুর ভাঙা অংশে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যায়।
ছোটডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক গকুল হোসেন বলেন, সিমেন্ট বোঝাই করে ভ্যান নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় তিনি উল্টে খালের মধ্যে পড়ে যান। এতে ভ্যানে থাকা সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। তাঁর ভাষ্য, সেতুটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় পুরো সেতু ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ছোটডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মিল্টন হোসেন বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে সেতুটির অবস্থা পরিদর্শন ও তদন্ত করে গেছেন।
সাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, প্রায় ১৪ বছর আগে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এক বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নিতিষ কুমার সরকার বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প আকারে প্রস্তাব প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন করে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত নিরাপদভাবে চলাচলের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ নিশ্চিত করে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
