আত্রাইয়ে ১৩২ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
পাকা সড়কের অপেক্ষায় আত্রাইয়ের গ্রামীণ জনপদ
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় মোট ৩৫৮ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৩২ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার এখনো কাঁচা রয়েছে। বছরের পর বছর এসব সড়ক পাকাকরণ না হওয়ায় গ্রামীণ এলাকার মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে, আর শুষ্ক সময়ে ধুলাবালিতে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে জনজীবন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এসব সড়ক অনেক সময় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আত্রাই উপজেলায় মোট ৩৫৮ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বর্তমানে ১৭৬ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার পাকা। এছাড়া ৪১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার হেরিং বোন বন্ড, ৪ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার কংক্রিট এবং ২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার ইউনিব্লক সড়ক রয়েছে। বাকি ১৩২ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার সড়ক এখনো মাটির।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়ক কাঁচা অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে আত্রাই-সিংড়া পাকা সড়কের ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার থেকে বিশা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক, পতিসর-সমসপাড়া সড়কের হিঙ্গলকান্দি বাজার মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়ক, ছোটডাঙ্গা ব্রিজের উত্তর পাশ থেকে ঝনঝনিয়া পর্যন্ত পৌনে দুই কিলোমিটার এবং ছোটডাঙ্গা বাজার থেকে তারাটিয়া পর্যন্ত সোয়া এক কিলোমিটার সড়ক উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া হাটকালুপাড়া জামালের বাড়ি থেকে চকশিমলা উত্তরপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ, চকবাজার থেকে গাঙ্গের ধার, পারকাসুন্দা-বিলগলিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো কাঁচা সড়ক রয়েছে।
বিশা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দীন শেখ বলেন, ভাঙ্গাজাঙ্গাল থেকে বিশা স্কুল পর্যন্ত মাটির সড়কটি পাকাকরণের কথা দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে শুনে আসছেন তারা। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। তার ভাষ্য, এই সড়ক দিয়ে পাঁচ থেকে সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন।
তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটিতে কাদা ও পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী এবং কৃষকদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
লালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান জানান, হিঙ্গলকান্দি মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মোড় থেকে আধা কিলোমিটার পাকা করা হয়েছে। তবে বাকি অংশ এখনো কাঁচা রয়েছে। এলাকাবাসী কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও সড়কটি পাকাকরণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের চলাচল এবং জরুরি সময়ে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সুবিধা বাড়বে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকা এসব সড়ক দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নিতীষ কুমার বলেন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ও জনদুর্ভোগপূর্ণ কয়েকটি সড়ক পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পর বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
