সিলেটে শ্রেণিকৃত ঋণ কমিয়ে প্রশংসাপত্র পেলেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে শ্রেণিকৃত ঋণ কমিয়ে প্রশংসাপত্র পেলেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা

সিলেটে শ্রেণিকৃত ঋণ কমিয়ে প্রশংসাপত্র পেলেন সঞ্জয় কুমার দত্ত

সিলেটে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক বছরে ৮১ দশমিক ১৪ লাখ টাকা কমেছে। ঋণ পরিস্থিতির এই উন্নতির জন্য ব্যাংকের সিলেট জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্তকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়েছে।

গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমা বানুর স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে সিলেট জেলার শ্রেণিকৃত ঋণের স্থিতি কমিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয়।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে গত ৪ আগস্ট ২০২৬ একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যাংকের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ঋণ বিতরণ, আদায় এবং শ্রেণিকৃত ঋণের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে সিলেট জেলার ঋণ পরিস্থিতির বিভিন্ন সূচকও বিশ্লেষণ করা হয়।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সিলেট জেলায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৫৩০ দশমিক ৫৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৬ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৪৯ দশমিক ৪১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে শ্রেণিকৃত ঋণের স্থিতি কমেছে ৮১ দশমিক ১৪ লাখ টাকা।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি, ঋণ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার বিষয়টিকে ব্যাংকের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের একটি ইতিবাচক সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

প্রধান কার্যালয়ের চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের তুলনায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সিলেট জেলায় শ্রেণিকৃত ঋণের স্থিতি কমেছে। এ অর্জনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্তকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে আগামী দিনে এ ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও শ্রেণিকৃত ঋণ কমিয়ে আনা এবং ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। পাশাপাশি নতুন অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রার বিভিন্ন সূচক অর্জনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে।

এদিকে প্রশংসাপত্রটির অনুলিপি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগকে প্রশংসাপত্রটি ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক মূলত দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা ব্যাংকের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেটে শ্রেণিকৃত ঋণ কমানোর এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে ব্যাংকের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page