নওগাঁয় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল চার পরিবারের ঘরবাড়ি, সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা ক্ষতিগ্রস্তরা
নওগাঁ শহরের পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।
নওগাঁ শহরের পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি পরিবারের বসতঘর ও ঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আকস্মিক আগুনে আসবাবপত্র, পোশাক, বিছানাপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। আগুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস পাড়ার একটি বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা প্রথমে একটি ঘরে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। পরে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল বের করে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি।
স্থানীয়দের ধারণা, সন্ধ্যাবাতি জ্বালানোর পর কোনোভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য নয়। আগুনের প্রকৃত উৎস ও কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পরপরই স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, বিছানাপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী আগুনে পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে সঞ্জয় সরকারসহ চারটি পরিবারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের ব্যবহার্য সামগ্রীর পাশাপাশি সঞ্চিত বিভিন্ন জিনিসও আগুনে নষ্ট হয়েছে। ফলে আগুনের পর তারা অনেকটা নিঃস্ব অবস্থায় পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত সঞ্জয় সরকার বলেন, “আমার সব শেষ। আমি নিঃস্ব হয়ে গিয়েছি। আমার আর কিছু নেই। এখন আমি কী করব, কোথায় যাব?”
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রিতা রানী জানান, তার ঘরের প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমার ঘরে আর কিছু নেই, সব শেষ হয়ে গেছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, তার প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। আগুনে ঘর ও প্রয়োজনীয় মালামাল হারানোর পর ঋণের বোঝা নিয়ে পরিবার চালানো নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
খবর পেয়ে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন যাতে আশপাশের আরও বসতবাড়িতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়ি আগুনের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমও চালানো হয়।
নওগাঁ ফায়ার স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের তাৎক্ষণিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি। ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্ত ও পরবর্তী যাচাই শেষে আগুনের সূত্রপাতের কারণ এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু ঢাকায় অবস্থান করায় তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল আজম রানা (ভিপি রানা) ঘটনাস্থলে যান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা লাঘবে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
হঠাৎ আগুনে ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে বর্তমানে চারটি পরিবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন তাদের পাশে দাঁড়ালে এই সংকট কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয়রাও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বসতবাড়িতে আগুনের সম্ভাব্য উৎস ও বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবহারে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
