জেসুসের সঙ্গে বরফ গলছে, পর্তুগালে ফিরতে পারেন রোনালদো

প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
জেসুসের সঙ্গে বরফ গলছে, পর্তুগালে ফিরতে পারেন রোনালদো

জেসুসের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে ফিরছেন রোনালদো

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেলেও পর্তুগিজ সাংবাদিক মিগেল পেরেইরার দাবি, আগামী বছর আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যেতে পারে এই তারকা ফুটবলারকে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোনালদোর শিবির, পর্তুগাল কোচ জর্জেস জেসুসের শিবির এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরি হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পরও রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলেই ইঙ্গিত মিলছে। তবে এখনো এটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের দেওয়া সম্ভাব্যতার খবর।

রোনালদোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে তার ১,০০০ গোলের লক্ষ্য। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পর্তুগালের হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার সময় রোনালদো জানিয়েছিলেন, ক্যারিয়ারের ১,০০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানো তার অন্যতম লক্ষ্য। তখন তার মোট গোলের সংখ্যা ছিল ৯৭৯, যার মধ্যে ক্লাব ফুটবলে ৮৩৩ এবং পর্তুগালের হয়ে ১৪৬টি। সেই সময় রোনালদো বলেছিলেন, জাতীয় দলের জার্সিতে ১,০০০তম গোল করতে পারলে সেটি তার জন্য একটি সুন্দর গল্পের সমাপ্তি হবে। ফলে এই ব্যক্তিগত লক্ষ্যই তাকে আবার পর্তুগালের হয়ে মাঠে ফেরার দিকে টানতে পারে বলে মনে করছেন পেরেইরা।

ঘটনাপ্রবাহের শুরুটা অবশ্য বেশ উত্তপ্ত। পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জেস জেসুসের অধীনে রোনালদো শুরুতে জাতীয় দলের পরিকল্পনার অংশ ছিলেন। ফিফার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেসুসের প্রথম পর্তুগাল দলে রোনালদোকে রাখা হয়েছিল এবং কোচ স্পষ্ট করেছিলেন, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই খেলোয়াড়দের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ রোনালদোর বিশেষ মর্যাদা থাকলেও মাঠে তার পারফরম্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ—এমন অবস্থান নিয়েছিলেন জেসুস।

এরপর পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের আগে রোনালদোকে একাদশে রাখা হবে না—এমন সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর তিনি পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। রোনালদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসার সঙ্গে কথা বলে তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা উপযুক্ত সময়ে পর্তুগালের মানুষকে জানাবেন। এই ঘটনায় তার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়।

তবে ক্যাম্প ছাড়ার অর্থ যে রোনালদো অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন, এমনটি তিনি বলেননি। বরং বর্তমান প্রতিবেদনে সেই বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিগেল পেরেইরার মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে। তিনি মনে করছেন, রোনালদোর শিবির, জেসুসের শিবির এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির চেষ্টা চলছে। পেরেইরার ধারণা, এসব প্রচেষ্টার ফলে আগামী বছর রোনালদোর আবার জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে রোনালদো, কোচ এবং ফেডারেশনের আলোচনার ফলের ওপর।

রোনালদোর বয়স এখন ৪১ বছর। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পর্তুগালের হয়ে তিনি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন এবং জাতীয় দলের অন্যতম বড় প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের পরও তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, যতক্ষণ মনে করবেন তিনি জাতীয় দলকে সাহায্য করতে পারছেন এবং দলও তাকে প্রয়োজন মনে করছে, ততক্ষণ তিনি খেলে যেতে চান। একই সময়ে তার সামনে ছিল দুটি বড় লক্ষ্য—পর্তুগালের হয়ে নেশন্স লিগে সাফল্য এবং নিজের ১,০০০তম ক্যারিয়ার গোল।

এখন তাই রোনালদোর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, পর্তুগালের ফুটবল ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। জাতীয় দলের জার্সিতে ১,০০০তম গোল করার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে তাকে আবার দলে ফিরতে হবে এবং মাঠে নিয়মিত সুযোগ পেতে হবে। অন্যদিকে জেসুসের অধীনে পর্তুগালের পরিকল্পনাতেও রোনালদোর ভূমিকা কতটা থাকবে, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আপাতত মিগেল পেরেইরার বক্তব্যে সম্ভাবনার দরজা খোলা রয়েছে। তাই রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সময় এখনো আসেনি। বরং ২০২৭ সালে পর্তুগালের জার্সিতে তার আরেকটি অধ্যায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page