যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন,আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন,আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

মোংলায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ

প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে। এরপর সংসারে বিরোধ, আলাদা থাকা এবং আবার বিয়ে। এবার যৌতুক ও অর্থের দাবিতে নির্যাতন, আড়াই লাখ টাকা নেওয়া, স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং তালাকের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাগেরহাটের মোংলায় স্বামী নিহাল ইসলাম বিপুলের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তার হীরা (৩৭)।

শামীমার অভিযোগ,২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিপুল মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিপুল তাঁর কাছে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ও যৌতুক দাবি করতে থাকেন। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে বিপুল ভুল স্বীকার করে আবার সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে শামীমা পুনরায় সংসার করতে রাজি হন। ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মোংলার দত্তের মেঠ এলাকায় বোরহান কাজীর মাধ্যমে তাঁদের আবার রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়। ওই বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ টাকা। তবে কোনো টাকা উসুল হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শামীমার অভিযোগ, দ্বিতীয়বার বিয়ের পরও অর্থ ও যৌতুকের দাবি বন্ধ হয়নি। সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি নিজের সঞ্চয় থেকে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নেন। এভাবে স্বামীকে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা নেওয়ার পরও বিপুল তাঁর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করেননি। বিভিন্ন নারীর সঙ্গে তাঁর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে বিপুল তাঁকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন এবং তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার ভয় দেখান বলেও অভিযোগ করেন শামীমা।

অভিযোগে বিপুলের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। শামীমার দাবি, মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁকে বিয়ে করার পর বিপুল আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা বা ঘোষণা করছেন। ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে বিয়ের বৈধতার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

শামীমা পুলিশের কাছে দুই দফা বিয়ের কাবিননামা, ধর্ম পরিবর্তনের এফিডেভিট, অর্থ লেনদেনের তথ্য ও নির্যাতনের অভিযোগ-সংক্রান্ত প্রমাণ যাচাই এবং সাক্ষীদের বক্তব্য নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।

মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম আমার দেশ-ও এসআইবি নিউজকে বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। দুই দফা বিয়ে, অর্থ লেনদেন, নির্যাতনের অভিযোগ, স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার বিষয় এবং ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের প্রকৃত তথ্য দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে নিহাল ইসলাম বিপুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর বর্তমান অবস্থানও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page