খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে গণশুনানি, সেবার মান নিয়ে রোগী-স্বজনদের নানা অভিযোগ
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের মতামত জানতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), খাগড়াছড়ির উদ্যোগে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
হাসপাতালের সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সরাসরি মতামত, অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা জানতে এ আয়োজন করা হয়। সনাক খাগড়াছড়ির সভাপতি বেলা রানী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. রতন খিশা, খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য তাসলিমা সিরাজ সীমা ও কুহেলি দেওয়ান।
এতে বিভিন্ন এলাকার রোগীর স্বজন ও সেবা গ্রহীতারা অংশ নিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা, ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে সাংবাদিক জহুরুল আলম হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল শুধু সিভিল সার্জনের নয়, এটি সবার। তাই হাসপাতালের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এর সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিও সবার নজর রাখা প্রয়োজন।
তিনি নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চিকিৎসক যে ওষুধ লিখে দেন, সেটিই রোগীদের দেওয়া উচিত। কোনো কোম্পানির কমিশনের ভিত্তিতে ওষুধ লেখার অভিযোগ যেন না ওঠে, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় খাগড়াছড়িতে নির্মাণাধীন নতুন হাসপাতাল ভবন প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাংবাদিক জহুরুল আলম। তিনি ভবনটি ভবিষ্যতে ১০ তলা করার পাশাপাশি নিচের কয়েকটি তলা দ্রুত সম্পন্ন করে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন।
গণশুনানির প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রথম প্রশ্ন করেন দহেন ত্রিপুরা। তিনি হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের খাবারের মেনু অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, তা জানতে চান। পাশাপাশি এসব বিষয় তদারকি করা হলেও তা সেবাগ্রহীতাদের কাছে দৃশ্যমান কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন করেন।
এর জবাবে হাসপাতালের আরএমও ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী রোগীদের খাবার সরবরাহ করা হয় এবং প্রতিদিনই তা তদারকি করা হয়।
প্রশ্নোত্তর পর্বের এক পর্যায়ে খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. রতন খিশা বলেন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল বলা হলেও বাস্তব অর্থে হাসপাতালটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল হিসেবে গড়ে ওঠেনি।
গণশুনানিতে এক নারী সেবাগ্রহীতা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ তুলে বলেন, বিউটি চাকমার রোগীকে জয়া চাকমাক দেখতে চান না। একই সঙ্গে তিনি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের অনুরোধ জানান।
এছাড়া এক রোগী দন্ত চিকিৎসক ডা. সূপর্ণা খীসার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, দাঁতের স্কেলিংয়ের জন্য ২০০ টাকা দাবি করা হলেও তাকে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।
অভিযোগের জবাবে আরএমও ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, দাঁতের স্কেলিংয়ের জন্য ব্যবহৃত কিছু সামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে কেনা হয়। এ কারণে বর্তমানে সমঝোতার মাধ্যমে সেবাটি দেওয়া হচ্ছে। তবে এ ধরনের সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গণশুনানিতে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের মতামত ও অভিযোগ শোনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে জবাব দেওয়া হয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
