ফৌজদারি মামলায় কারাভোগের পরও দায়িত্বে নায়েব, তদন্ত চেয়ে অভিযোগ

প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৮ অপরাহ্ণ
ফৌজদারি মামলায় কারাভোগের পরও দায়িত্বে নায়েব, তদন্ত চেয়ে অভিযোগ

নিয়ামতপুরে ভূমি অফিসের নায়েবের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর-পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় সাতদিন কারাভোগের পরও দায়িত্ব পালন, ভূমি সেবা দিতে অর্থ দাবিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজাউল করিমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, নায়েব মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে নওগাঁর ২ নম্বর আমলী আদালতে সিআর ৮২৪/২০২৩ (মান্দা) নম্বরে একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা সাতদিন তিনি কারাগারে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হাজতবাসের প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

এদিকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারায় কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হলে বা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গৃহীত হলে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে। অভিযোগকারীর দাবি, মাহাবুব আলমের কারাভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয় কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও প্রযোজ্য বিধি যাচাই সাপেক্ষ।

শুধু হাজতবাস নয়, নায়েব মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বিজয় মহন্ত নামের এক ব্যক্তিকে ভূমি অফিসে বহিরাগত হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, জমির নামজারি, খাজনা পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করা হতো।

বনগাঁপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. আতাহার আলী (পল্টু) অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী মোছা. হাফসা বেগমের নামে থাকা জেএল ১৭২ বনগাঁপাড়া মৌজার প্রস্তাবিত খতিয়ান নম্বর ২২২ ও হোল্ডিং নম্বর ৩৪১-এর খাজনা পরিশোধ করা থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে খাজনা পরিশোধের জন্য ভূমি অফিসে গেলে তার কাছে ৩৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

আতাহার আলীর অভিযোগ, নায়েব মাহাবুব আলমের মাধ্যমে বহিরাগত বিজয় মহন্ত ওই অর্থ দাবি করেন। টাকা না দিলে কাজ হবে না বলেও তাকে জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দাবিকৃত অর্থের একটি অংশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজাউল করিমকে দিতে হবে বলে নায়েব তাকে জানিয়েছিলেন।

তবে অর্থ দাবির এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের পক্ষে কোনো কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা অন্য কোনো প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, নায়েব মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, হাজতবাস এবং ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অবগত ছিলেন। তারপরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীর ভাষ্য, এর মাধ্যমে নায়েব প্রশাসনিক আশ্রয় পেয়েছেন। তবে এসিল্যান্ডের প্রত্যক্ষ মদদের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এখন খুব বিজি (ব্যস্ত) আছি, পরে সময় করে কথা বলবো।” তবে পরে তার কাছ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত নায়েব মো. মাহাবুব আলমের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নায়েব মাহাবুব আলম ও বিজয় মহন্তের কথিত যোগাযোগের কললিস্ট, কল রেকর্ড, ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট নথি এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে নায়েবের হাজতবাসের নথি, আদালতের আদেশ এবং হাজতবাসের সময় ও পরবর্তী সময়ে তার চাকরিসংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নায়েবের হাজতবাসের প্রমাণপত্রসহ লিখিত অভিযোগটি তারা পেয়েছে। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

এখন অভিযোগটির তদন্তে নায়েবের হাজতবাসের প্রকৃত নথি, তার দায়িত্ব পালনের প্রশাসনিক বৈধতা, ভূমি সেবা প্রদানে অর্থ দাবির অভিযোগ, বহিরাগত ব্যক্তির ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এসব বিষয় যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page