অবশেষে দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী, বিজয় উল্লাস

প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
অবশেষে দুই দশক পর ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী, বিজয় উল্লাস

দুই দশকের বেশি সময় পর ইরাক থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে মার্কিন সেনাদের।

দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো মার্কিন সামরিক বাহিনী। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর দীর্ঘ এই সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল মঙ্গলবার। শেষ মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়ার পর দেশজুড়ে আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে দেশের জন্য নতুন দিনের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে এবং চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার এক দিন আগেই মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরাকি বাহিনী সক্ষম বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে মার্কিন সেনাদের চলে যাওয়াকে ঘিরে ইরাকিদের মধ্যে একই সঙ্গে আনন্দ ও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো শূন্যতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফালুজা অঞ্চলের একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর মনে করেন, নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তাঁর আশঙ্কা, মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক অনুপস্থিতি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন শঙ্কা তৈরি করতে পারে।

২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাক সরকারের একটি সমঝোতার মাধ্যমে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হয়। সে সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিল। গত বছর তাদের বড় একটি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোতে কিছু মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। তাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির শুরু ২০০৩ সালে। ওই বছর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী দেশটিতে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরবর্তী সময়ে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ে। ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২০১১ সালে বড় একটি অংশ ইরাক ছাড়লেও ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে আবারও মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।

সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটিতে তেহরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অনুপস্থিতিতে এসব গোষ্ঠী আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে মনে করছেন কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ইরাক ত্যাগ কৌশলগতভাবে ইরানের জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে। তাঁর মতে, এতদিন ইরাকে তেহরানের প্রভাবের বিপরীতে ভারসাম্য তৈরিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের অবসান ঘটছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন দিনের সূচনা হয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশটি বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হওয়ার পথে এগিয়েছে এবং পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত হবে।

তবে সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একদিকে দীর্ঘদিনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অবসানকে সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page