শুরুতেই তিন গোলের ধাক্কা, এবার বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
প্রথম পরীক্ষাতেই বড় ধাক্কা, তিন গোলের ব্যবধানে থামল বাংলাদেশের যাত্রা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতাটির প্রথম আসরে গ্রুপ ‘এ’-এর এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল বড় একটি আন্তর্জাতিক পরীক্ষা। তবে পুরো ম্যাচে মালয়েশিয়ার আক্রমণ সামলাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩–০ গোলের ব্যবধানে হেরে প্রতিযোগিতায় যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের তিনটি গোলই আসে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে এবং বাংলাদেশের আক্রমণ থেকে কাঙ্ক্ষিত গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই মালয়েশিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। চতুর্থ মিনিটেই ফয়সাল হালিম দূরপাল্লার শটে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণকে পরীক্ষা নেন। সেই আক্রমণ থেকে বাংলাদেশ সতর্কবার্তা পেলেও মালয়েশিয়ার চাপ খুব বেশি সময় ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। ১৮ মিনিটে নোয়া লেইনের পাস থেকে আরিফ আইমান হানাপি গোল করে মালয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন। গোল পাওয়ার পরও মালয়েশিয়া আক্রমণ কমায়নি এবং বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে নিয়মিত চাপে রাখে।
প্রথম গোলের পর বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মালয়েশিয়ার মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে আবারও গোলের দেখা পান আরিফ আইমান। স্টুয়ার্ট উইলকিনের কাছ থেকে বল পেয়ে তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। ফলে বিরতিতে ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই দুই গোলের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের জন্য ম্যাচে ফিরে আসার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। বিরতির পর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মালয়েশিয়া ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মালয়েশিয়ার হয়ে অভিষেক হওয়া বার্গসন দা সিলভা ৫১তম মিনিটে গোল করে দলের ব্যবধান ৩–০ করেন। অর্থাৎ অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নিজের আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করেন এই ফরোয়ার্ড। আরিফ আইমানের জোড়া গোলের পর বার্গসনের এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে দেয়।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল আক্রমণভাগে কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে না পারা। মালয়েশিয়ার রক্ষণ ভেদ করে পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরিতে লাল-সবুজের খেলোয়াড়রা বারবার ব্যর্থ হয়। বিপরীতে মালয়েশিয়া তাদের তৈরি করা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পেরেছে। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোরশিটে কোনো গোল যোগ না হওয়ায় ৩–০ ব্যবধানেই শেষ হয় লড়াই। ফলে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই বাংলাদেশের গোল ব্যবধানও নেতিবাচক হয়ে গেল।
এই ম্যাচের আগে দুই দলের শক্তির পার্থক্যও আলোচনায় ছিল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল। ম্যাচের আগে মালয়েশিয়ার অবস্থান ছিল ১৩৬তম, আর বাংলাদেশের ১৮১তম। গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে খেলতে হচ্ছে। অর্থাৎ শুরু থেকেই বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছিল তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। কোচ থমাস ডুলিও প্রতিযোগিতাটিকে বাংলাদেশের বর্তমান সামর্থ্য যাচাই এবং নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেছিলেন।
ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম আসরে আমন্ত্রণ পেয়ে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জন্য এই প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের পরীক্ষা করার একটি সুযোগ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হার সেই পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে না পারলেও গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের আরও দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। পরবর্তী ম্যাচে ২৮ সেপ্টেম্বর একই গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে দলটি।
তাই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩–০ গোলের হার দিয়ে আসিয়ান কাপ শুরু হলেও বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পরবর্তী দুই ম্যাচে রক্ষণভাগের সমন্বয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে তিন গোল হজম করে গোল করতে না পারা বাংলাদেশের দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করেছে। এখন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে সেই সমস্যাগুলো কতটা কাটিয়ে উঠতে পারে, সেটিই হবে বাংলাদেশের পরবর্তী পরীক্ষার বিষয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
