আজ আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস

প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
আজ আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস

২৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস, বধির মানুষের ভাষাগত অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরার দিন।

কথা বলার জন্য সব সময় শব্দের প্রয়োজন হয় না। হাতের অঙ্গভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি ও নির্দিষ্ট সংকেতের মাধ্যমেও ভাব প্রকাশ করা যায়। বিশ্বের কোটি কোটি বধির ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সাইন ল্যাংগুয়েজ বা ইশারা ভাষা। ভাষার এই বৈচিত্র্য ও বধির মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আজ ২৩ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ২৩ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বধির মানুষের মানবাধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে ইশারা ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস পালিত হয়।

sib news 2026 09 22 world rhino day
আজ বিশ্ব গণ্ডার দিবস
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

দিনটি বেছে নেওয়ার পেছনেও রয়েছে বিশেষ কারণ। ১৯৫১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রোমে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব দ্য ডেফ (WFD) প্রতিষ্ঠিত হয়। বধির মানুষের অধিকার, ইশারা ভাষা ও বধির সংস্কৃতির স্বীকৃতি এবং সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে সংগঠনটি। সেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটিকেই আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

অনেকের ধারণা, ইশারা ভাষা শুধু হাতের কিছু সংকেত বা কথ্য ভাষার বিকল্প একটি পদ্ধতি। বাস্তবে তা নয়। জাতিসংঘ ও WFD-এর তথ্য অনুযায়ী, ইশারা ভাষা পূর্ণাঙ্গ প্রাকৃতিক ভাষা; এর নিজস্ব কাঠামো রয়েছে এবং এগুলো কথ্য ভাষা থেকে স্বতন্ত্র। বিশ্বজুড়ে ৩০০টিরও বেশি ইশারা ভাষা ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দেশের বধির জনগোষ্ঠীর নিজস্ব জাতীয় ইশারা ভাষা রয়েছে, আবার একই দেশের মধ্যেও একাধিক ইশারা ভাষা থাকতে পারে।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ‘ইন্টারন্যাশনাল সাইন’ নামে একটি ব্যবস্থাও ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক সভা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা ভিন্ন দেশের বধির মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগে এটি কাজে লাগে। তবে এটি কোনো দেশের জাতীয় ইশারা ভাষার বিকল্প নয়; বরং বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা।

ইশারা ভাষার গুরুত্ব শুধু যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, বিচারব্যবস্থা ও সরকারি সেবাসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বধির মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইশারা ভাষায় প্রবেশাধিকার গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ বলছে, জীবনের শুরু থেকেই ইশারা ভাষা ও ইশারা ভাষাভিত্তিক সেবায় প্রবেশাধিকার এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ বধির মানুষের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বজুড়ে বধির মানুষের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও এ দিবসের অন্যতম বার্তা। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Declaring Deaf People’s Human Rights’—অর্থাৎ বধির মানুষের মানবাধিকারকে বাস্তবে নিশ্চিত করার আহ্বান। চলতি বছর ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব দ্য ডেফ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছরও পূর্ণ হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক সনদ (CRPD) গৃহীত হওয়ার ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে।

বাংলাদেশেও ইশারা ভাষার স্বীকৃতি ও ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে। ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ৭ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবসের পাশাপাশি বাংলাদেশে বাংলা ইশারা ভাষার নিজস্ব স্বীকৃত দিবসও রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আজকের দিনে বধির মানুষের ভাষাগত অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। ইশারা ভাষাকে কেবল যোগাযোগের একটি কৌশল হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়াই দিবসটির মূল তাৎপর্য।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page