আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরিকল্পিত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমা পার হওয়ার পর নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে চলতি সপ্তাহে অথবা এর পরপরই এ বিষয়ে নির্বাহী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করতে পারে ওয়াশিংটন। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আগে নেওয়া পদক্ষেপের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হবে।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল আইসিসির নির্দিষ্ট কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এবার পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আদালটির সঙ্গে আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেনের বড় অংশ সীমিত হয়ে যেতে পারে। এতে আদালটির অর্থায়ন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাও চাপে পড়তে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসির বিরুদ্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই আদেশে আদালতের নির্দিষ্ট কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়।

ওই নির্বাহী আদেশের আওতায় আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানেসহ কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের পেছনে আইসিসির কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে আদালটির বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়। আইসিসি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ওই পরোয়ানা জারি করেছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ অনুমতি ছাড়া আইসিসির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে। আদালটির তথ্যপ্রযুক্তি, বীমা, তদন্ত কার্যক্রম ও কর্মীদের বেতন পরিশোধের মতো কার্যক্রমও এর প্রভাবে পড়তে পারে।

প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কয়েক মাসের একটি ‘উইন্ড-ডাউন’ সময় রাখার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। অর্থাৎ নির্বাহী পদক্ষেপ ঘোষণা হলেও সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য প্রায় ছয় থেকে সাত মাস সময় দেওয়া হতে পারে।

তবে এখনো এ নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। মার্কিন প্রশাসন কবে এবং কী পরিসরে ব্যবস্থা নেবে, তা নির্বাহী পদক্ষেপ চূড়ান্ত হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। অন্যদিকে আদালতটি রোম সংবিধির আওতায় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে। ফলে প্রস্তাবিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও আইসিসির মধ্যকার সম্পর্কেই নয়, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও আদালটির সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এনডিটিভি, আরব নিউজ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page