নতুন ঠিকানায় প্রথম গোল, আর্জেন্টাইন তারকার দুর্দান্ত শুরু
ফ্রি-কিকে সরাসরি জালে, ম্যানসিটির জার্সিতে এনজোর প্রথম গোল
ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে নতুন ক্লাবে নিজের গোলের খাতা খুলেছেন তিনি। ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া সেট-পিসকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি বল জালে পাঠান এনজো। তার নিখুঁত কিক সান্ডারল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। নতুন ক্লাবে প্রথম গোল পাওয়ায় এটি এনজোর জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে। ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরাও তার এমন সূচনায় উচ্ছ্বসিত হন। বড় অঙ্কের ট্রান্সফারের পর সিটির জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে এই গোলটি আলাদা গুরুত্ব বহন করছে।
সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের নবম মিনিটেই আসে এনজোর সেই গোল। ম্যানচেস্টার সিটি আক্রমণ তৈরি করার পর ফ্রি-কিক পায় এবং সেটি নেওয়ার দায়িত্ব নেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। পরিস্থিতি দেখে এনজো সতীর্থদের জন্য ক্রস না করে সরাসরি গোলমুখে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার নেওয়া বলটি অসাধারণ বাঁক নিয়ে সান্ডারল্যান্ডের জালে প্রবেশ করে। গোলরক্ষক বলটির গতিপথ বুঝে ওঠার আগেই সেটি জালে পৌঁছে যায়। ফলে ম্যাচের একেবারে শুরুতেই সিটি এগিয়ে যায়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই নতুন ক্লাবের হয়ে গোল করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এনজো নিজের অভিষেককে স্মরণীয় করে তোলেন।
এই গোলটি শুধু ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এনজোর প্রথম গোল নয়, তার সেট-পিস দক্ষতারও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি এনজো দূরপাল্লার শট ও ফ্রি-কিকেও কার্যকর হতে পারেন। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গোলটি সেই দিকটিই সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে ম্যাচের এত দ্রুত সময়ে গোল পাওয়ায় সিটির জন্য শুরুটা ইতিবাচক হয়। তবে গোল করার পরও ম্যাচ পুরোপুরি একতরফা ছিল না। সান্ডারল্যান্ড দ্রুত আক্রমণে ফিরে এসে নিজেদের সুযোগ তৈরি করে এবং সিটির লিড ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দেয়।
ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে এনজো ফার্নান্দেজ চেলসির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। এর আগে রিভার প্লেট ও বেনফিকার হয়ে খেলেছেন তিনি। ইউরোপে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার পর চেলসিতে বড় অঙ্কের ট্রান্সফারে যোগ দেন আর্জেন্টাইন তারকা। চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর এবার তার সামনে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন অধ্যায়। সিটি তাকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দলে নিয়েছে এবং মাঝমাঠে তার পাসিং, সৃজনশীলতা ও গোল করার সক্ষমতা কাজে লাগাতে চাইছে। নতুন ক্লাবে প্রথম গোল পাওয়ায় এনজোর ওপর থাকা প্রত্যাশার সঙ্গে তার যাত্রার প্রথম বড় ব্যক্তিগত মুহূর্তটিও যুক্ত হলো।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও এনজো ফার্নান্দেজের ক্যারিয়ারে রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্য ছিলেন তিনি এবং টুর্নামেন্টে নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিতি আরও বাড়ান। পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকাতেও শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ফলে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার সময় তার আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলের অভিজ্ঞতা ছিল যথেষ্ট। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম গোলটি সেই অভিজ্ঞতাকে নতুন ক্লাবের পরিবেশে কাজে লাগানোর একটি প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিটির মাঝমাঠে তার ভূমিকা তাই সামনের ম্যাচগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এনজোর ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টিও ছিল বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রিপোর্ট অনুযায়ী, চেলসি থেকে তাকে দলে নিতে সিটি প্রায় ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে, যদিও ক্লাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় নির্দিষ্ট ট্রান্সফার ফি প্রকাশ করা হয়নি। বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কারণে স্বাভাবিকভাবেই তার ওপর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই প্রত্যাশার মধ্যে নতুন ক্লাবের হয়ে দ্রুত গোল পাওয়াটা তার জন্য ইতিবাচক শুরু। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রি-কিক থেকে করা গোলটি অবশ্য পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নয়। সামনে আরও ম্যাচে তার ধারাবাহিকতা, মাঝমাঠে অবদান এবং দলের ফলাফলে ভূমিকা দিয়েই তার নতুন অধ্যায়ের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
