ভারতের সামনে টিকল না বাংলাদেশ, এখন ব্রোঞ্জের লড়াই

প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
ভারতের সামনে টিকল না বাংলাদেশ, এখন ব্রোঞ্জের লড়াই

ব্যাটিং ধস, সেমিফাইনালেই থামল বাংলাদেশের সোনার স্বপ্ন

এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮১ রানেই অলআউট হয়ে যায় নিগার সুলতানার দল। ফলে ১১৪ রানের জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। বাংলাদেশের জন্য এই পরাজয় স্বর্ণপদকের স্বপ্নে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। তবে সেমিফাইনালে হেরে গেলেও টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়নি। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ভারতের হাতে। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারেই বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যায়।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে। ভারতের ইনিংসকে বড় সংগ্রহে নিয়ে যেতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন শেফালি ভার্মা। তিনি দুর্দান্ত ব্যাটিং করে মাত্র ৪৯ বলে অপরাজিত শতরান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও নয়টি ছক্কা। পাশাপাশি স্মৃতি মান্ধানা ১৯ বলে ৩৭ রান করেন এবং অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর করেন ৩৩ বলে ৪০ রান। এই তিন ব্যাটারের কার্যকর পারফরম্যান্সে শেষ দিকে ভারতের রান দ্রুত বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও শেষ দিকে ভারতীয় ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং থামাতে পারেনি।

১৯৬ রানের বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামার পর শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র নয় রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও শোভনা মোস্তারি দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। এরপর একের পর এক ব্যাটার সাজঘরে ফেরায় রান তোলার গতি থেমে যায়। অধিনায়ক নিগার সুলতানা ৯ রান করেন, শারমিন আক্তার করেন ১০ রান। সুলতানা খাতুনের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন দিলারা আক্তার। কিন্তু তাঁর ইনিংসও বাংলাদেশকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি। ভারতের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে পুরো ইনিংসজুড়েই অসহায় দেখায় বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের পেছনে ভারতের বোলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দীপ্তি শর্মা ও নন্দিনী শর্মা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেন। দীপ্তি মাত্র ৭ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন, যা তাঁর বোলিংকে বিশেষ কার্যকর করে তোলে। নন্দিনী শর্মাও তিনটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার ভেঙে দেন। শ্রী চরণী দুটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ক্রান্তি গৌড় ও শ্রেয়াঙ্কা পাতিল একটি করে উইকেট নেন। ভারতীয় বোলারদের ধারাবাহিক চাপের কারণে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারই বড় জুটি গড়তে পারেননি। ফলে ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এই পরাজয়ের ফলে এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের স্বর্ণপদকের লড়াই শেষ হয়েছে। তবে এখনো একটি পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ফলে স্বর্ণপদকের জন্য ভারত ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে সেমিফাইনালে পরাজিত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সামনে এখন ব্রোঞ্জ পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতা ভুলে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই হবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিই তাই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শেষ পদক জয়ের সুযোগ।

স্বর্ণপদকের লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্ট পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে জয় পেলে পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারবে দলটি। ভারতের বিপক্ষে ১৯৫ রানের জবাবে মাত্র ৮১ রানে অলআউট হওয়ার ম্যাচটি বাংলাদেশের ব্যাটিং দুর্বলতাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে বড় লক্ষ্য তাড়া করার সময় শুরুতেই উইকেট হারানোর পর কীভাবে ইনিংস ধরে রাখতে হয়, সেটিই হবে পরবর্তী ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত এই পরাজয় থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্রিকেট খেলা। কারণ স্বর্ণের স্বপ্ন শেষ হলেও ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ এখনো বাংলাদেশের হাতেই রয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page