জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে তারেক রহমানের সামনে যেসব বিষয়

প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে তারেক রহমানের সামনে যেসব বিষয়

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রায় চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ। ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এমন একটি সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। দেশের স্বার্থ, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকায়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২ জুন ২০২৬ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন। এ অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভাষণে বাংলাদেশের বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলো গুরুত্ব পাবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্যে জাতিসংঘে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় উন্নত ও বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের অন্যতম দাবি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজের বক্তব্য অনুযায়ী, জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে অনুদানভিত্তিক বা গ্র্যান্ট-বেইজড ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা জাতিসংঘে তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি এবং এ সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরাই হবে এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

দেশের অভ্যন্তরে পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মতো কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে সাইমুম পারভেজ বলেন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন বিনিয়োগ আনার সম্ভাবনাও দেখছে সরকার।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি সাইডলাইনে বৈঠকগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে ২৩ সেপ্টেম্বর একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন বলে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে। তবে বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে।

এবারের সফর বাংলাদেশের জন্য আরও একটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি থাকায় প্রধানমন্ত্রী যখন সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন, তখন একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে দেশের ভূমিকা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। খলিলুর রহমান ইতিমধ্যে ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘে আস্থা পুনর্গঠন, সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণ ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু অর্থায়ন, বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার সুযোগ পাবে সরকার।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page