তরুণদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন, আবেদন করবেন যেভাবে
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি
তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ (UDYOG) কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়নে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যাংক ঋণ এবং সমপরিমাণ অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে সবাই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন না; উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন, ব্যয় পরিকল্পনা ও চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করবে ব্যাংক।
আবেদন করতে হলে আবেদন গ্রহণের শেষ দিনে বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা নতুন ব্যবসা শুরুর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ নেওয়া থাকলে এই কর্মসূচিতে আবেদন করা যাবে না। ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও যোগ্য হবেন না।
কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপসহ দেশের প্রচলিত আইনে বৈধ বিভিন্ন ব্যবসা এ কর্মসূচিতে বিবেচিত হবে। নতুন ব্যবসার ধারণার পাশাপাশি চলমান ব্যবসাও আবেদন করতে পারবে।
আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরম জমা দিতে হবে। যে ব্যাংকে আবেদন করবেন, সেখানে আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, এসএমই পোর্টাল বা তফসিলি ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকেও ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র দিতে হবে:
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি
- সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, যদি থাকে
- দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ, (যদি থাকে)
- সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার/কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ
- নির্ধারিত ফরম ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি
আবেদন ফরমে নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসার ধারণা, সম্ভাব্য ক্রেতা, ব্যবসা শুরুর সময়, ব্যবসার ধরন, অবস্থান, কাঁচামালের উৎস, বাজার, সম্ভাব্য বিক্রি, লাভ, ঝুঁকি এবং কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা দিতে হবে। চলমান ব্যবসা থাকলে ব্যবসার নাম, ধরন, শুরুর তারিখ, ট্রেড লাইসেন্সের তথ্য, বিক্রি, লাভ, ব্যয়, নিজস্ব বিনিয়োগ ও কর্মীর সংখ্যাসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কত টাকা মূলধন প্রয়োজন, নিজের বিনিয়োগ কত এবং কত টাকা অর্থায়ন চান—সেটিও ফরমে উল্লেখ করতে হবে। অর্থ কোন খাতে খরচ হবে, যেমন যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, পরিচালন ব্যয়, প্যাকেজিং, লাইসেন্স, বিপণন, কর্মীদের বেতন, পরিবহন, প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ—তার হিসাবও দিতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর ব্যাংক প্রাথমিকভাবে আবেদন যাচাই করবে। এরপর ব্যবসার ধারণার বাস্তবায়নযোগ্যতা, বাজারের সম্ভাবনা, আর্থিক পরিকল্পনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত হলেই ঋণ নিশ্চিত হবে না; চূড়ান্ত অনুমোদন ব্যাংকের নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী হবে। তালিকা পাওয়ার পর ব্যাংককে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
এই কর্মসূচিতে সহায়ক জামানত ছাড়াও ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত উদ্যোক্তার ব্যাংক ঋণ ও সমপরিমাণ অনুদান এককালীনভাবে ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হবে। নগদে অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে। ঋণের অপব্যবহার বা পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থও ঋণে পরিণত হতে পারে।
আবেদন জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক থেকে ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহ করা উচিত। কারণ ব্যাংককে আবেদনকারীর নাম, জমাদানের তারিখ ও ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে।
তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই, ব্যবসার পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব প্রস্তুত করে নির্ধারিত ফরমে তথ্য পূরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০ লাখ টাকা সর্বোচ্চ সীমা; এটি নিশ্চিত অর্থায়নের পরিমাণ নয়। প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী কম অর্থও অনুমোদিত হতে পারে।
উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে আবেদন শুরু হয়েছে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তাদের আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক থেকে ট্র্যাকিং নম্বর সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
