নতুন ভোটার হতে যেসব কাগজপত্র লাগবে
নতুন ভোটার নিবন্ধনের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ
বাংলাদেশে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়া যায়। নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এসব নথি আগে থেকেই প্রস্তুত থাকলে আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
নতুন ভোটার হওয়ার জন্য সাধারণত নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন করতে হয়। অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ শেষে এর প্রিন্ট কপি নিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হতে হয়।
নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি হলো অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ। আবেদনকারীর ডিজিটাল ও যাচাইযোগ্য জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি জমা দিতে হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ থাকলে সেটিও জমা দেওয়া যেতে পারে। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি বা সর্বশেষ উত্তীর্ণ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ—যেটি প্রযোজ্য, তার কপি দেওয়া যায়।
এ ছাড়া আবেদনকারীর বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপিও প্রয়োজন হতে পারে। বাবা বা মা মারা গেলেও তাঁদের এনআইডি নম্বর অথবা পুরোনো এনআইডির কপি থাকলে তা জমা দিতে হতে পারে।
নতুন ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা সনদও প্রয়োজন হতে পারে। এ সনদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র অথবা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে নেওয়া যেতে পারে।
আবেদনকারীর বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির বিল কিংবা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ দেওয়া যেতে পারে। ঠিকানার তথ্য যাচাইয়ের সময় এসব নথি কাজে লাগতে পারে।
রক্তের গ্রুপের প্রমাণপত্রও প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট বা কোনো ল্যাবরেটরি পরীক্ষার কপি জমা দেওয়া যায়।
বিবাহিত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু নথি প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের কপি এবং কাবিননামার অনুলিপি রয়েছে।
অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রিন্ট করা আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যেতে হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সেখানে আবেদনকারীর ছবি তোলা হবে। একই সঙ্গে বায়োমেট্রিক তথ্য, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নেওয়া হবে।
এরপর নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য ও জমা দেওয়া নথি যাচাই করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পাওয়া যাবে।
আবেদনের আগে জন্ম নিবন্ধন, বাবা-মায়ের এনআইডি এবং ঠিকানার তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে যাচাইয়ের সময় অতিরিক্ত কাগজপত্র বা ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।
তবে নতুন ভোটার নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা স্থানীয় নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।
নতুন ভোটার হতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
- বাবা ও মায়ের এনআইডির কপি
- নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা সনদ
- ঠিকানার প্রমাণপত্র
- রক্তের গ্রুপের পরীক্ষার রিপোর্ট
- বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডির কপি
- বিবাহিতদের ক্ষেত্রে কাবিননামার অনুলিপি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
