নওগাঁর পোরশায় ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ
পোরশায় ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বড় বাগান এলাকায় ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর স্থানীয় গ্রাহকদের কয়েকগুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বিল আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ না করলে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন গ্রাহক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় বাগান এলাকার একটি ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার পর সেখানে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর থেকেই অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আগে যেসব গ্রাহকের মাসিক বিল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, কারও ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার টাকার মধ্যে থাকত, তাদের কারও কারও নামে এখন কয়েক হাজার টাকার বিল আসছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের পর কোনো কোনো গ্রাহকের মাসিক বিল ৩ হাজার, ৪ হাজার, ৬ হাজার এমনকি ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত এসেছে। তাদের ভাষ্য, বিদ্যুতের ব্যবহার আগের মতোই রয়েছে। ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও হঠাৎ করে বিল কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।
গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিলের মূল টাকার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত চার্জও যুক্ত করা হয়েছে। এসব চার্জ কেন নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে এত বেশি বিল নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন।
কয়েকজন গ্রাহক জানান, অস্বাভাবিক বিল নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেছেন। সেখানে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের কারণে এসব অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তবে এ ধরনের চার্জের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত বিল পরিশোধ নিয়ে আপত্তি জানালে বিল পরিশোধ না করলে মামলা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক গ্রাহক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার ও মিটার রিডিং যাচাই করে বিল পুনর্নির্ধারণ করা হোক।
স্থানীয় গ্রাহকরা দ্রুত বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মিটার রিডিং, পূর্ববর্তী মাসগুলোর বিল এবং বর্তমান বিলের পরিমাণ যাচাই করলে অস্বাভাবিকতার বিষয়টি সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব। ভুল বা অতিরিক্ত বিল হয়ে থাকলে তা সংশোধনের পাশাপাশি গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে স্থানীয় গ্রাহকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
