ভূমিসেবা কেন্দ্রে বসছে মতামত বাক্স, জানানো যাবে অভিযোগ ও পরামর্শ

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
ভূমিসেবা কেন্দ্রে বসছে মতামত বাক্স, জানানো যাবে অভিযোগ ও পরামর্শ

ভূমিসেবা কেন্দ্রে নাগরিকদের অভিযোগ ও পরামর্শ জানানোর ব্যবস্থা

জেলা পর্যায়ে ভূমিসেবা কার্যক্রমের মান আরও উন্নত করতে এবং সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পরামর্শ ও মতামত সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। দেশের প্রতিটি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে দৃশ্যমান স্থানে ‘মতামত বাক্স’ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬’ অনুসরণ করে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার পাশাপাশি নাগরিক সন্তুষ্টি এবং সেবার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে সেবাগ্রহীতাদের সহজে চোখে পড়ে এমন স্থানে একটি মতামত বাক্স রাখতে হবে। ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকরা এই বাক্সে লিখিতভাবে তাদের অভিজ্ঞতা, অভিযোগ, পরামর্শ কিংবা সেবা-সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামত জমা দিতে পারবেন।

শুধু মতামত সংগ্রহ করেই কার্যক্রম শেষ করা যাবে না। বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ, পরামর্শ ও মতামত যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এসব মতামত ও অভিযোগের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের সার্বিক সেবার মান এবং নাগরিক সন্তুষ্টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ২০২৬ সালের ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকায় উল্লেখিত বিভিন্ন ব্যবস্থা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে কেন্দ্র পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে জানার সুযোগ তৈরি করতেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের ভেতরে এবং প্রবেশপথে ভূমিসেবা-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার প্রদর্শন করতে হবে। এসব প্রচারসামগ্রীতে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, নামজারি আবেদন দাখিল, নির্ধারিত সরকারি ফি, হেল্পলাইন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সেবাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। স্থাপন করা হলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এর মাধ্যমে সেবা প্রদানের পরিবেশ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ বাড়বে।

সেবাগ্রহীতাদের তথ্য অনুসন্ধান এবং প্রাথমিক সেবা গ্রহণ আরও সহজ করতে কিয়স্ক মেশিন স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা ভূমিসেবা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য, টোকেন গ্রহণসহ প্রাথমিক কিছু কার্যক্রম সহজে সম্পন্ন করার সুযোগ পেতে পারেন।

জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস অন্তর কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম ও সেবার মান মূল্যায়ন করতে হবে। এই মূল্যায়নে সেবা প্রদানের সময় ও মান, মতামত বাক্স, নাগরিকদের জন্য প্রদর্শিত ব্যানার ও পোস্টার, সিসি ক্যামেরা, কিয়স্ক মেশিন, তথ্য নিরাপত্তা এবং সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হবে।

প্রতি তিন মাসের মূল্যায়ন শেষে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতি তিন মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্ধারিত প্রতিবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিকেএমপি অনুবিভাগে পাঠাতে হবে।

নতুন এই ব্যবস্থায় ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের অভিজ্ঞতাকে সেবা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হবে। কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানি, বিলম্ব, তথ্যের ঘাটতি বা অন্য কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে মতামত বাক্সের মাধ্যমে তা কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে পারবেন। একই সঙ্গে সেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে নাগরিকদের পরামর্শও পাওয়া যাবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রগুলোতে শুধু সেবা দেওয়ার ব্যবস্থাই নয়, সেবার মান পর্যালোচনা ও নাগরিক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহের একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামোও তৈরি হবে। নিয়মিত মূল্যায়ন, অভিযোগ পর্যালোচনা এবং নাগরিক সন্তুষ্টির তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভূমিসেবা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার সুযোগ বাড়বে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page