মোবাইলের ব্যালেন্স দিয়েই করা যাবে কেনাকাটা জানুন নিয়ম

প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
মোবাইলের ব্যালেন্স দিয়েই করা যাবে কেনাকাটা জানুন নিয়ম

মোবাইল ব্যালেন্স দিয়ে নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবা কেনার সুযোগ।

ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নেই, এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নেই—তবু এবার মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স ব্যবহার করেই নির্দিষ্ট পণ্য ও ডিজিটাল সেবা কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি মোবাইল ব্যালেন্সের মাধ্যমে কেনাকাটার সীমা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা গ্রাহকদের জন্যও নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও সেবা কেনার পথ আরও সহজ হতে যাচ্ছে।

এই সুবিধাটি মূলত ‘ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং’ বা ডিওবি ব্যবস্থার আওতায় দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকের মোবাইল ব্যালেন্স থেকেই নির্ধারিত পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ করা যায়। তবে এটি বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো পূর্ণাঙ্গ মোবাইল আর্থিক সেবা বা ডিজিটাল ওয়ালেট নয়। বিটিআরসির অনুমোদিত নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেই মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করা যাবে।

নতুন সিদ্ধান্তে ডিওবি ব্যবস্থায় মাসিক ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বার্ষিক সীমাও ১৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন গ্রাহক অনুমোদিত পণ্য ও সেবা কিনতে মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। এই বর্ধিত সীমা আপাতত ছয় মাসের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।

এর ফলে স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগে ডিওবি ব্যবস্থায় স্মার্টফোন কেনার সুযোগ ছিল না। নতুন ব্যবস্থায় স্মার্টফোনের পাশাপাশি সিমভিত্তিক ডিভাইস, মডেম ও রাউটারসহ নির্দিষ্ট পণ্য কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এমনকি মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শুধু ডিভাইস কেনা নয়, বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার মূল্য পরিশোধেও ডিওবি ব্যবহার করা যায়। এর আওতায় ডিজিটাল কনটেন্ট, অ্যাপ ও অ্যাপের ভেতরের কেনাকাটা, অনলাইন ইউটিলিটি বিল, ই-টিকিটিং, ই-হেলথ সেবা, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন এবং শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের মতো নির্দিষ্ট সেবার মূল্য মোবাইল ব্যালেন্স থেকে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

তবে এই সুবিধা এখনো সব মোবাইল অপারেটরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়নি। সংশোধিত সীমার আওতায় বর্তমানে গ্রামীণফোন অনুমোদন পেয়েছে এবং এই সুবিধা চালু করেছে। বিটিআরসির পক্ষ থেকে অন্য মোবাইল অপারেটরগুলোকেও একই সুবিধা নেওয়ার জন্য অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে এই সেবা চালু করতে পারবে।

বিটিআরসির এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য হলো যেসব মানুষের ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংকিং সুবিধা নেই, তাঁদের জন্য ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার সুযোগ বাড়ানো। বিশেষ করে দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার আরও বাড়াতে মোবাইল ব্যালেন্সের মাধ্যমে ডিভাইস কেনার এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে গ্রাহকদের মনে রাখতে হবে, মোবাইল ব্যালেন্স দিয়ে যেকোনো দোকান বা যেকোনো পণ্য কেনা যাবে—বিষয়টি এমন নয়। ডিওবি ব্যবস্থার আওতায় বিটিআরসি অনুমোদিত পণ্য ও সেবাতেই এই সুবিধা সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে গ্রাহককে কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটর ও সেবাদাতার কাছে ওই পণ্য বা সেবা ডিওবির আওতায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

নতুন এই ব্যবস্থার ফলে মোবাইল ব্যালেন্স শুধু কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য নয়, বরং নির্দিষ্ট ডিজিটাল পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধের একটি মাধ্যম হিসেবেও আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা গ্রাহকদের জন্য এটি ডিজিটাল কেনাকাটার নতুন একটি দরজা খুলে দিতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page