স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৯ দফা দাবি জামায়াতের

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ৯ দফা দাবি জামায়াতের

স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসিকে জামায়াতের ৯ দফা দাবি

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পুরো নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব প্রকাশে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কমিশন কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কি না।

জামায়াতের অন্যতম প্রধান দাবি হলো, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাতিল করা।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষকরা স্থানীয় ও জাতীয় সব ধরনের নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছেন। তাই শুধু স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করা সংবিধানের সমানাধিকারের নীতির পরিপন্থি বলে দাবি করে জামায়াত।

তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

জামায়াতের আরেকটি দাবি হলো, যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও কার্যক্রম সরকার নিষিদ্ধ করেছে, সেই দলের পদ-পদবিধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়া।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিষিদ্ধ কোনো দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ। তবে সাধারণ সমর্থকদের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানানো হয়নি।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শামসুল আলমের বিষয়েও আপত্তি জানায় জামায়াত। গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তা বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক সাব-কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেও উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন তাদের উদ্বেগের বিষয়টি স্বীকার করলেও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না হওয়ার কথা জানিয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিরোধিতা করেছে জামায়াত।

দলটির অভিযোগ, এসব নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই এসব পদে থাকা প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

জামায়াত আরও দাবি করেছে, তফসিল ঘোষণার পর কেউ পদত্যাগ করলেও যেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। পাশাপাশি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করবে না জামায়াত। আগ্রহীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্য স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। স্থানীয় নির্বাচনে দলগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নেবে।

সূত্র: Jugantor

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page