সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে ৬৭ লাখ টাকা, ঘোষণা সিঙ্গাপুর সরকার
জন্মহার বাড়াতে নতুন শিশু সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সিঙ্গাপুর।
সিঙ্গাপুরে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে জন্মহার। দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় ‘সুপার-এজড সোসাইটি’ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম ধনী এই নগররাষ্ট্রটি। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ শিগগিরই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে জন্মহার বাড়াতে বড় ধরনের আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। নতুন উদ্যোগ অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দেওয়া সিঙ্গাপুরের নাগরিক পরিবারগুলো সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পাবেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ লাখ টাকার সমান।
রোববার (২৩ আগস্ট) ২০২৬ সালের ন্যাশনাল ডে র্যালিতে এ প্রণোদনার ঘোষণা দেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। খবর ইকোনমিক টাইমসের।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন ‘এসজি চাইল্ড সাপোর্ট প্যাকেজ’-এর আওতায় সর্বোচ্চ ৬২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার এবং বিদ্যমান বিভিন্ন সুবিধার অধীনে আরও প্রায় ৭ হাজার ৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার দেওয়া হবে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল পপুলেশন অ্যান্ড ট্যালেন্ট ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন প্যাকেজটি আগের দুটি সহায়তা প্রকল্পকে একত্র করে তৈরি করা হয়েছে। এর আওতায় ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল বা তার পরে জন্ম নেওয়া প্রতিটি যোগ্য শিশুর জন্য ১০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
এই অর্থ শিশুর জন্মের প্রথম ১২ মাসের মধ্যে দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিশুর জীবনের প্রথম ১৬ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার করে ক্রেডিট সুবিধা দেওয়া হবে। এতে মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৩২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমান সুবিধার তুলনায় প্রথম সন্তানের বয়স ১৭ বছর হওয়া পর্যন্ত পরিবারগুলো অতিরিক্ত ৪২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবে। তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আরও ১৯ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বাড়ানো হবে।
সিঙ্গাপুর সরকারের ধারণা, নতুন এই প্যাকেজের মাধ্যমে দেশটির প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। পাশাপাশি ১৭ বছর বা তার কম বয়সী ৬ লাখ ১০ হাজারের বেশি শিশু এই সুবিধার আওতায় আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, সন্তান পালনের খরচ এবং পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার কারণে সিঙ্গাপুরে দীর্ঘদিন ধরে জন্মহার কমছে। নতুন এই আর্থিক প্রণোদনা তরুণ পরিবারগুলোকে সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
