iPhone 18 Pro Max-এ আসছে ক্যামেরার এমন সুবিধা, যা নাও থাকতে পারে Pro মডেলে

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
iPhone 18 Pro Max-এ আসছে ক্যামেরার এমন সুবিধা, যা নাও থাকতে পারে Pro মডেলে

iPhone 18 Pro Max-এ ভেরিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন, যা Pro মডেলের সঙ্গে ক্যামেরার পার্থক্য তৈরি করতে পারে।

Apple-এর পরবর্তী প্রজন্মের iPhone 18 সিরিজ বাজারে আসার আগেই ক্যামেরা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য ও একাধিক প্রতিবেদনের দাবি, iPhone 18 Pro Max-এ এমন একটি ক্যামেরা প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে, যা ছোট iPhone 18 Pro মডেলে নাও পাওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো মূল ক্যামেরায় ভেরিয়েবল অ্যাপারচার। এটি সত্যি হলে Pro ও Pro Max-এর মধ্যে শুধু আকার ও ব্যাটারির পার্থক্য থাকবে না, ক্যামেরাতেও তৈরি হবে গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যারগত ব্যবধান।

iPhone-এর Pro সিরিজে এতদিন মূল ক্যামেরার অ্যাপারচার নির্দিষ্ট ছিল। iPhone 14 Pro থেকে iPhone 17 Pro পর্যন্ত প্রধান ক্যামেরায় f/1.78 ফিক্সড অ্যাপারচার ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্যামেরার লেন্সের খোলা অংশ শারীরিকভাবে বড় বা ছোট করার সুযোগ ছিল না। আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার ও কম আলোয় ছবি উন্নত করার বড় অংশই সফটওয়্যার ও কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফির মাধ্যমে করা হয়েছে।

নতুন গুঞ্জন অনুযায়ী, iPhone 18 Pro Max-এ সেই জায়গাতেই পরিবর্তন আসতে পারে। জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি কথিত Tata Electronics ডায়াগনস্টিক লগে Sony IMX905 সেন্সরের সঙ্গে অ্যাপারচার মেকানিজমের অ্যাকচুয়েটর ও ক্যালিব্রেশন-সংক্রান্ত তথ্য থাকার দাবি করা হয়। Notebookcheck-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই তথ্য ভেরিয়েবল অ্যাপারচার সমর্থনকারী হার্ডওয়্যারের ইঙ্গিত দেয়। তবে নথিটি Apple-এর অফিসিয়াল প্রকাশনা নয় এবং Apple নিজেও এর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

এরপর ১৮ আগস্ট চীনা লিকার Ice Universe দাবি করেন, ভেরিয়েবল অ্যাপারচার সুবিধাটি শুধু iPhone 18 Pro Max-এর জন্য রাখা হতে পারে। আগের বেশিরভাগ গুঞ্জনে ধারণা করা হয়েছিল, iPhone 18 Pro ও Pro Max—দুই মডেলেই এই প্রযুক্তি থাকবে। ফলে নতুন এই দাবি সত্যি হলে Apple আবারও Pro ও Pro Max-এর ক্যামেরায় বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করতে যাচ্ছে।

ভেরিয়েবল অ্যাপারচার আসলে কী করবে—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। সহজভাবে বললে, ক্যামেরার লেন্সের ভেতরের একটি শারীরিক ব্যবস্থা আলোর প্রবেশের পথ বড় বা ছোট করতে পারে। উজ্জ্বল পরিবেশে অ্যাপারচার কিছুটা বন্ধ করলে সেন্সরে অতিরিক্ত আলো পড়া কমানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে অন্ধকার পরিবেশে অ্যাপারচার বেশি খুলে দিলে সেন্সরে বেশি আলো পৌঁছাতে পারে। ফলে ক্যামেরাকে শুধু সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর না করে অপটিক্যালভাবেও এক্সপোজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

এর আরেকটি সুবিধা হতে পারে ছবির ডেপথ অব ফিল্ড নিয়ন্ত্রণ। বর্তমানে iPhone-এর Portrait Mode মূলত সফটওয়্যার ও কম্পিউটেশনাল পদ্ধতিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার তৈরি করে। ভেরিয়েবল অ্যাপারচার থাকলে ক্যামেরার অপটিক্যাল সিস্টেম থেকেই আলো ও ফোকাসের গভীরতা নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি নমনীয়তা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে পোর্ট্রেট, খাবারের ছবি, কাছাকাছি বিষয় এবং ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে এর ব্যবহারিক সুবিধা দেখা যেতে পারে।

তবে শুধু অ্যাপারচার পরিবর্তন করলেই ছবির মান নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। স্মার্টফোনের সেন্সর ও লেন্সের আকার DSLR বা মিররলেস ক্যামেরার তুলনায় অনেক ছোট। ফলে বড় ক্যামেরার মতো গভীর ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার পাওয়ার সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়। Apple কীভাবে এই প্রযুক্তিকে তাদের কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফির সঙ্গে সমন্বয় করবে, সেটিই বাস্তবে এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, iPhone 18 Pro Max-এর মূল ক্যামেরায় Sony IMX905 সেন্সর ব্যবহার করা হতে পারে। একই তথ্য অনুযায়ী, টেলিফটো ক্যামেরায় Sony IMX973, আল্ট্রাওয়াইডে IMX972, LiDAR-এ IMX591 এবং সামনের ক্যামেরায় IMX914 সেন্সর থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব স্পেসিফিকেশনও Apple আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এখানে আরও একটি বিষয় নজরে পড়ার মতো। ২০২৪ সাল থেকেই iPhone 18 Pro সিরিজে ভেরিয়েবল অ্যাপারচার আসার গুঞ্জন ছিল এবং সে সময় সরবরাহ-শৃঙ্খল বিশ্লেষক Ming-Chi Kuo জানিয়েছিলেন, দুই Pro মডেলেই এই প্রযুক্তি থাকার কথা। ২০২৬ সালের এপ্রিলেও MacRumors একাধিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানায় যে Apple-এর ভেরিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা সিস্টেমের উৎপাদন প্রস্তুতি এগোচ্ছে এবং তখনও দুই Pro মডেলের কথাই বলা হয়েছিল।

তাই এখনকার সবচেয়ে নতুন দাবি—শুধু Pro Max-এ ভেরিয়েবল অ্যাপারচার থাকবে—আগের তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। এই কারণেই বিষয়টিকে নিশ্চিত স্পেসিফিকেশন হিসেবে না দেখে সাম্প্রতিক একটি সম্ভাব্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা উচিত।

Apple এর আগে Pro ও Pro Max মডেলের ক্যামেরায় আলাদা সুবিধা দিয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ iPhone 15 Pro Max, যেখানে 5x tetraprism telephoto ক্যামেরা ছিল, কিন্তু একই সুবিধা ছোট iPhone 15 Pro-তে ছিল না। পরবর্তী প্রজন্মে এই পার্থক্য কমে আসে। এবার ভেরিয়েবল অ্যাপারচার যদি সত্যিই শুধু Pro Max-এ দেওয়া হয়, তাহলে বড় মডেলটিকে আবারও ক্যামেরার দিক থেকে আলাদা করে তোলার কৌশল দেখা যেতে পারে।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী iPhone 18 Pro ও iPhone 18 Pro Max-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ হওয়ার কথা। তার আগে Apple-এর পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য না আসা পর্যন্ত ক্যামেরার সেন্সর, অ্যাপারচার কিংবা কোন মডেলে কোন সুবিধা থাকবে—সবকিছুকেই গুজব বা ফাঁস হওয়া তথ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, iPhone 18 Pro Max-এ ভেরিয়েবল অ্যাপারচার সত্যিই থাকলে এটি শুধু আরেকটি ক্যামেরা আপগ্রেড হবে না; Pro Max-কে ছোট Pro মডেল থেকে আলাদা করার অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যারা স্মার্টফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য সেপ্টেম্বরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page