প্রায় ৫০০ উপজেলায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসা, জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রায় ৫০০ উপজেলায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসা, জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

দেশের প্রায় ৫০০ উপজেলায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের।

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে উন্নত চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রায় ৫০০টি উপজেলায় আধুনিক চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হু স্পেকস ২০৩০ ইনিশিয়েটিভ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উদ্যোগটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। বর্তমানে অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে যেতে হয়। উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তৃণমূলের মানুষ নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকেই চক্ষু চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি জানান, দেশের প্রায় ৫০০টি উপজেলায় উন্নত চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ চলছে।

তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণেও পরিবর্তন আনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে ‘প্রাইমারি আই কেয়ার’ বা প্রাথমিক চক্ষু সেবা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ চক্ষু সমস্যাগুলো শনাক্ত করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য পাঠাতে আরও সক্ষম হবেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো সমন্বয় করে দ্রুত অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন ও রিফ্রাকশন সেবা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ছানি ও দৃষ্টিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ আরও বাড়বে।

চক্ষু চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বড় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রকল্পটি শিগগির বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের চক্ষু চিকিৎসা খাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো গেলে তৃণমূল পর্যায়ে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে বৈশ্বিক পর্যায়েও তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চোখের বিভিন্ন রোগ সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা করা না হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রাথমিক চক্ষু সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ছানি, দৃষ্টির ত্রুটি ও অন্যান্য সাধারণ চক্ষু সমস্যার প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সহজলভ্য হলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা নেওয়ার বাধাও কমবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হু স্পেকস ২০৩০ ইনিশিয়েটিভ’-এর বাংলাদেশ কার্যক্রম শুরুর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতে চক্ষু সেবার গুরুত্বের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উপজেলা থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত চক্ষু চিকিৎসার অবকাঠামো ও জনবল সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page