Honor Robot Phone এ ঘুরবে ক্যামেরা ২০০ মেগাপিক্সেলের গিম্বল ফোনে
ঘুরতে পারে Honor Robot Phone এর ক্যামেরা
স্মার্টফোনের ক্যামেরাকে আরও উন্নত করতে নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরে বড় সেন্সর, উন্নত ইমেজ প্রসেসিং, অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর জোর দিয়ে আসছে। তবে এবার প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ক্যামেরাকেই ফোনের শরীরের ভেতরে নড়াচড়া করার ব্যবস্থা করেছে Honor। কোম্পানির নতুন Honor Robot Phone-এ ফোনের পেছন থেকে বেরিয়ে আসা একটি মোটরচালিত গিম্বল আর্মের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে প্রধান ক্যামেরা। ফলে এটি শুধু ছবি ও ভিডিও ধারণই করবে না, প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যামেরার অবস্থান ও দিকও পরিবর্তন করতে পারবে।
Honor Robot Phone চীনের বাজারে উন্মোচন করেছে এবং ফোনটির সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর গিম্বল ক্যামেরা। সাধারণ স্মার্টফোনে ক্যামেরা স্থির অবস্থায় থাকে এবং ভিডিও স্থির রাখতে সফটওয়্যার ও অপটিক্যাল স্ট্যাবিলাইজেশনের ওপর নির্ভর করতে হয়। Robot Phone সেই জায়গায় যান্ত্রিকভাবে ক্যামেরাকে নড়াচড়া করানোর ব্যবস্থা করেছে। Honor-এর দাবি, ফোনটির ভেতরে ব্যবহৃত 4DoF গিম্বল সিস্টেমটি শিল্পের সবচেয়ে ছোট ধরনের সিস্টেমগুলোর একটি।
ফোনটির মূল ক্যামেরাটি ২০০ মেগাপিক্সেলের এবং এতে ১/১.২৮ ইঞ্চি আকারের সেন্সর ও f/1.6 অ্যাপারচার রয়েছে। এই ক্যামেরাটিই গিম্বল আর্মের সঙ্গে যুক্ত। এর পাশাপাশি ফোনের পেছনে ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। ফলে গিম্বল ক্যামেরার পাশাপাশি দূরের বিষয় জুম করে তোলা এবং প্রশস্ত দৃশ্য ধারণের জন্য আলাদা ক্যামেরাও পাওয়া যাচ্ছে।
গিম্বল ক্যামেরাটি ফোনের পেছনের ক্যামেরা মডিউলের মধ্যে ভাঁজ হয়ে থাকে। প্রয়োজন হলে মোটরচালিত আর্মটি বাইরে বেরিয়ে আসে এবং ক্যামেরাকে বিভিন্ন দিকে ঘোরাতে পারে। Honor-এর প্রযুক্তি ব্যবস্থায় তিন অক্ষের যান্ত্রিক স্ট্যাবিলাইজেশন এবং AI-ভিত্তিক স্থিরীকরণ একসঙ্গে কাজ করে। ফলে হাঁটা বা নড়াচড়ার সময় ভিডিও ধারণ করলেও ক্যামেরার কাঁপুনি কমানোর চেষ্টা করে সিস্টেমটি।
এই ব্যবস্থার কারণে ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণের পদ্ধতিতেও বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। ব্যবহারকারী ফোনের ক্যামেরা অ্যাপ থেকেই গিম্বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। ক্যামেরাকে নির্দিষ্ট দিকে ঘোরানো, প্যান করা কিংবা বিভিন্ন সৃজনশীল মুভমেন্ট তৈরি করার সুবিধা রয়েছে। AI Object Tracking ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে শনাক্ত করে সেটিকে ফ্রেমের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারে ক্যামেরা। ফলে ভিডিও নির্মাতা, ভ্লগার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে।
গিম্বলের আরেকটি সুবিধা হলো সেলফি ও অস্বাভাবিক কোণ থেকে ছবি তোলার সুযোগ। সাধারণ ফোনে মূল ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি তুলতে গেলে পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করা কঠিন হয়ে যায়। Robot Phone-এর গিম্বল ক্যামেরা ব্যবহার করে মূল ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়েই বিভিন্ন ধরনের সেলফি ও ভিডিও ধারণ করা সম্ভব। ক্যামেরা ঘুরিয়ে প্যানোরামা সেলফি তৈরির মতো ফিচারও রাখা হয়েছে।
ভিডিও নির্মাতাদের কথা মাথায় রেখে Honor ফোনটিতে পেশাদার ভিডিও ফিচারও যুক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি চলচ্চিত্র প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ARRI-এর সঙ্গে কাজ করেছে। এর ফলে ফোনটিতে সিনেমা-ধাঁচের কালার প্রসেসিং, ARRI LogC3 এবং পেশাদার ভিডিও সম্পাদনার কাজে সহায়ক কিছু ফিচার পাওয়া যাচ্ছে। Honor-এর দাবি, গিম্বল ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে স্মার্টফোন ভিডিওকে আরও সিনেমাটিক করার লক্ষ্যেই এসব প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।
ফোনটির গিম্বল শুধু ক্যামেরা স্থির রাখার জন্য নয়। Honor এটিকে AI-ভিত্তিক ইন্টার্যাকশনের অংশ হিসেবেও ব্যবহার করেছে। ফোনটির Yoyo AI সহকারী ক্যামেরার নড়াচড়া ব্যবহার করে মাথা নাড়ার মতো অঙ্গভঙ্গি করতে পারে। এমনকি গান বাজলে ক্যামেরা নড়াচড়া করে নাচের মতো অঙ্গভঙ্গিও করতে পারে। ব্যবহারিক দিক থেকে এসব ফিচারের গুরুত্ব সীমিত হলেও ফোনটিকে অন্য স্মার্টফোনের তুলনায় আলাদা পরিচয় দিয়েছে।
হার্ডওয়্যারের দিক থেকেও Robot Phone সাধারণ কোনো পরীক্ষামূলক ডিভাইস নয়। এতে Qualcomm-এর Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটিতে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি RAM এবং ১ টেরাবাইট স্টোরেজের সংস্করণ রয়েছে। ডিসপ্লে হিসেবে রয়েছে প্রায় ৬.৩ ইঞ্চির OLED প্যানেল। ব্যাটারির সক্ষমতা ৭০৬০mAh এবং এতে ১২০ ওয়াট তারযুক্ত ও ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন রয়েছে।
তবে এত প্রযুক্তি একসঙ্গে যুক্ত করার ফলে ফোনটির আকার ও ওজনও সাধারণ ফ্ল্যাগশিপের তুলনায় বেশি। ফোনটির পুরুত্ব প্রায় ৯.৬ মিলিমিটার এবং ওজন ২৪৮ গ্রাম। গিম্বল ক্যামেরার যান্ত্রিক অংশ যুক্ত থাকায় ডিভাইসটি হাতে তুলনামূলক ভারী মনে হতে পারে। পানি ও ধুলা প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গিম্বল বন্ধ থাকা অবস্থায় ফোনটি IP54 সুরক্ষা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এটিকে প্রচলিত IP68 রেটিংয়ের ফ্ল্যাগশিপ ফোনের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা যাবে না।
গিম্বল ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েও ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকই সামনে এসেছে। হাতে-কলমে পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভিডিও স্থির রাখার ক্ষেত্রে এটি আলাদা গিম্বল ক্যামেরার মতোই ধারণা বাস্তবায়ন করতে পারছে, যদিও DJI Osmo Pocket-এর মতো বিশেষায়িত ডিভাইসের তুলনায় স্থিরীকরণ সামান্য কম হতে পারে। দীর্ঘ সময় ভিডিও ধারণ করলে ফোনের তাপমাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। তবে একটি স্মার্টফোনের ভেতরে এত ছোট জায়গায় পুরো যান্ত্রিক গিম্বল ব্যবস্থা যুক্ত করতে পারাটাই প্রযুক্তিগতভাবে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের বাজারে Honor Robot Phone-এর প্রাথমিক দাম ৯৯৯৯ ইউয়ান, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ১ হাজার ৪৮০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। আপাতত ফোনটি চীনের বাজারেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এটি কবে পাওয়া যাবে বা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
সব মিলিয়ে Honor Robot Phone এমন একটি স্মার্টফোন, যেখানে ক্যামেরাকে শুধু একটি সেন্সর হিসেবে না দেখে ফোনের চলমান যান্ত্রিক অংশে পরিণত করা হয়েছে। ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, তিন অক্ষের গিম্বল স্ট্যাবিলাইজেশন, AI ট্র্যাকিং, ARRI-এর ভিডিও প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী ফ্ল্যাগশিপ হার্ডওয়্যার একসঙ্গে এটিকে ২০২৬ সালের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী স্মার্টফোনগুলোর একটি করে তুলেছে। তবে এর বেশি দাম, তুলনামূলক ভারী গঠন এবং চলমান ক্যামেরা ব্যবস্থার স্থায়িত্বই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই ধারণা সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে কতটা জনপ্রিয় হয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
