দেশে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, এক দিনে ৪ জনের মৃত্যু

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
দেশে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, এক দিনে ৪ জনের মৃত্যু

দেশে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীর চিকিৎসা চলছে বিভিন্ন হাসপাতালে।

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম ও সন্দেহজনক হাম দুই ক্ষেত্রেই দুইজন করে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার (৮ আগস্ট) পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও সন্দেহজনক হাম মিলিয়ে মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে দুজন এবং সন্দেহজনক হাম রোগে দুজন মারা গেছেন। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগে মারা গেছেন ৭৬৯ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৬৭৭ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে সংক্রমণ ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট এক লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে এক লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণ থেকে এটি ছড়াতে পারে। শিশুদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ ও জটিলতার ঝুঁকি বেশি হওয়ায় উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা রেখে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে শিশুদের এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করাও হাম প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুদের অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং টিকাদানের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page