পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর নিরাপত্তা বাহিনী
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা। — SIB NEWS
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও সশস্ত্র সংঘাত প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এলাকায় সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।
আগামীকাল ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সংঘর্ষে জড়িতদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফলে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে পর্যটন শিল্পের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিংও করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। কোনো পক্ষ পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই সবার প্রত্যাশা। পাহাড়ি-বাঙালি সব জনগোষ্ঠীর মানুষ যেন পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
