বিটিসিএলের আলাপ ক্লাউড সেবায় এক নম্বরেই চলবে অফিসের সব করপোরেট যোগাযোগ
বিটিসিএলের আলাপ ক্লাউড করপোরেট টেলিফোনি সেবা
ডিজিটাল করপোরেট যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ, আধুনিক ও সাশ্রয়ী করতে নতুন ক্লাউডভিত্তিক টেলিফোনি সেবা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। ‘আলাপ ক্লাউড’ নামে এই সেবার মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেট সংস্থা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে অফিসের টেলিফোন ও গ্রাহকসেবা পরিচালনা করতে পারবে।
বিটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, আলাপ ক্লাউড একটি ক্লাউডভিত্তিক করপোরেট টেলিফোনি প্ল্যাটফর্ম। এতে আলাদা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বা ব্যয়বহুল হার্ডওয়্যার স্থাপনের প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যাবে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই দেশের যেকোনো স্থান থেকে অফিসের অফিসিয়াল নম্বর ব্যবহার করে কল করা ও গ্রহণ করা সম্ভব হবে। ফলে অফিসের বাইরে থেকেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই করপোরেট যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন।
সেবাটির অন্যতম আকর্ষণীয় সুবিধা হলো ক্লাউড আইপি-পিবিএক্স (Cloud IP-PBX)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের সব অফিস টেলিফোন নম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করা যাবে। অভ্যন্তরীণ এক্সটেনশন নম্বর, কল ট্রান্সফার, কল ফরওয়ার্ডিং, কনফারেন্স কল এবং বিভিন্ন অফিস শাখার মধ্যে সহজ যোগাযোগের সুবিধাও পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া ভয়েস ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (Voice Broadcasting Service)-এর মাধ্যমে একসঙ্গে হাজারো গ্রাহক বা সদস্যের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভয়েস বার্তা পাঠানো সম্ভব হবে। ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, সরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা হতে পারে। বিভিন্ন ঘোষণা, জরুরি বার্তা, বিল পরিশোধের অনুস্মারক অথবা জনসচেতনতামূলক প্রচারণায় এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রাহকসেবা উন্নত করতে ক্লাউড কন্টাক্ট সেন্টার (Cloud Contact Center) সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান একই নম্বর থেকে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কল দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবে। কল মনিটরিং, কল রেকর্ডিং, গ্রাহক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরির মতো আধুনিক সুবিধাও এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে, যা গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্লাউডভিত্তিক টেলিফোনি সেবা এখন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। কারণ এতে অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় কমে, রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খুব দ্রুত নতুন ব্যবহারকারী বা শাখা যুক্ত করা যায়। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এ ধরনের প্রযুক্তি ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।
বিটিসিএলের মতে, ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক করতেই ‘আলাপ ক্লাউড’ চালু করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবে এবং ইন্টারনেটভিত্তিক নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা পাবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি উদ্যোগে ক্লাউডভিত্তিক করপোরেট টেলিফোনি সেবার সম্প্রসারণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, গ্রাহকসেবা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে একাধিক শাখা নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি যোগাযোগ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
