নারায়ণগঞ্জে আসছে মেট্রোরেল! এমআরটি-২ ও এমআরটি-৪ নিয়ে বড় আপডেট দিল সরকার
নারায়ণগঞ্জে আসছে মেট্রোরেল
নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে মেট্রোরেল প্রকল্প। রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে দ্রুত, আধুনিক এবং যানজটমুক্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এমআরটি লাইন-২ এবং এমআরটি লাইন-৪ প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।
জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, গাবতলী থেকে ঢাকা শহর হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩০ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-২ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই রুটে সরাসরি নারায়ণগঞ্জ শহরকে যুক্ত করা হবে, যা রাজধানীর সঙ্গে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটির জন্য উন্নয়ন সহযোগী বা অর্থায়নকারী সংস্থা খোঁজার লক্ষ্যে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এটি অনুমোদন এবং অর্থায়নের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে।
শুধু এমআরটি লাইন-২ নয়, নারায়ণগঞ্জকে কেন্দ্র করে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল প্রকল্প নিয়েও কাজ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৪ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-৪ হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি রেলপথ, যেখানে উড়ালপথ (Elevated) এবং ভূগর্ভস্থ (Underground) উভয় ধরনের অবকাঠামো থাকবে। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও সহজে রেলপথ নির্মাণ সম্ভব হবে এবং ভূমি অধিগ্রহণের চাপও কমবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও শিক্ষার প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘ যানজট এবং সময় অপচয়ের কারণে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মেট্রোরেল চালু হলে এই যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং রাজধানীর সড়কপথের ওপর চাপও হ্রাস পাবে।
বর্তমানে ঢাকা মেট্রোরেলের বিভিন্ন লাইন বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। সরকার রাজধানী ও আশপাশের জেলাগুলোকে আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নারায়ণগঞ্জকে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমআরটি লাইন-২ এবং এমআরটি লাইন-৪ বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াত সুবিধাই বাড়বে না, বরং নারায়ণগঞ্জে নতুন শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে এই জেলার অর্থনৈতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
এখন প্রকল্প দুটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়নের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা। কারণ বাস্তবায়ন হলে এটি হতে পারে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে অন্যতম বড় উন্নয়ন প্রকল্প।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আপনার মতামত লিখুন
Array