ইসলামে তাহাজ্জুদ নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত। বিশেষ করে রাতের শেষ ভাগে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর কাছে দোয়া ও ইবাদত করার এই আমলকে মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক মুসল্লির মধ্যেই একটি প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায়—তাহাজ্জুদ নামাজ আসলে সুন্নত নাকি নফল?
আরও পড়ুন-অলস মন কেন শয়তানের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, জিকিরই যেভাবে দেয় মুক্তির পথ
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাহাজ্জুদ নামাজ মূলত নফল নামাজ। এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তবে রাসুলুল্লাহ ﷺ নিয়মিত এই নামাজ আদায় করতেন এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। সে কারণে অনেক ইসলামি স্কলার ও ফকিহ তাহাজ্জুদকে “সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদা” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব আমল রাসুলুল্লাহ ﷺ নিয়মিত করতেন কিন্তু উম্মতের ওপর বাধ্যতামূলক করেননি, সেগুলোকে সাধারণত সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদা বলা হয়। তাহাজ্জুদ নামাজ সেই শ্রেণির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
পবিত্র কুরআনেও তাহাজ্জুদের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সূরা আল-ইসরার ৭৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত।”
ইসলামি ব্যাখ্যাকারদের মতে, এই আয়াতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে তাহাজ্জুদের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
হাদিসেও তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত সম্পর্কে বহু বর্ণনা রয়েছে। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।”
আলেমরা বলেন, এখানে মূলত তাহাজ্জুদ নামাজকেই বোঝানো হয়েছে।
তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের সবচেয়ে উত্তম সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ এশার নামাজের পর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে উঠে এই নামাজ পড়া উত্তম। সাধারণত ২ রাকাত থেকে শুরু করে সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি রাকাতও আদায় করা যায়।
ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, তাহাজ্জুদ শুধু একটি নফল ইবাদত নয়, বরং এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। গভীর রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন আল্লাহর উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো একজন মুমিনের আন্তরিকতা ও তাকওয়ার পরিচয় বহন করে।
অনেক মুসল্লি মনে করেন তাহাজ্জুদ না পড়লে গুনাহ হবে। তবে আলেমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি ফরজ নয়। তাই না পড়লে গুনাহ হবে না। কিন্তু নিয়মিত আদায় করলে অনেক সওয়াব ও ফজিলত পাওয়া যায়।
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, তাহাজ্জুদের সময় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের ডাক দেন এবং ক্ষমা ও দোয়া গ্রহণের ঘোষণা দেন।
বর্তমানে ব্যস্ত জীবনে অনেকেই তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারেন না। তবে আলেমরা বলছেন, অল্প হলেও নিয়মিত এই আমল করার চেষ্টা করা উচিত। কারণ এটি আত্মশুদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
সব মিলিয়ে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তাহাজ্জুদ নামাজ মূলত নফল নামাজ হলেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। রাসুলুল্লাহ ﷺ এর নিয়মিত আমল হওয়ায় মুসলমানদের জন্য এটি বিশেষ ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সূত্র: পবিত্র কুরআন (সূরা আল-ইসরা: ৭৯), সহিহ মুসলিম, ইসলামি ফিকহ ও আলেমদের ব্যাখ্যা।
আরও পড়ুন-প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তে কী করবেন ইসলাম কী বলে?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










