দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে এখন ঘরে বসেই জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা যাচ্ছে। শুধু নিজের জমি নয়, চাইলে আত্মীয়-স্বজন বা পরিবারের অন্য সদস্যদের জমির খাজনাও এখন অনলাইনে দেওয়া সম্ভব। তবে অনেকেই এখনো জানেন না—কিভাবে নিজের নাগরিক প্রোফাইল ব্যবহার করে অন্যের জমির খাজনা পরিশোধ করবেন।
আরও পড়ুন-অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬
সরকারের ভূমি সেবা পোর্টাল এই সুবিধাকে সহজ করে দিয়েছে। মাত্র কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করেই যে কেউ নিবন্ধন করে অনলাইনে খাজনা দিতে পারেন। এতে সময় বাঁচছে, ঝামেলা কমছে এবং সেবার স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হচ্ছে।
অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করতে হলে প্রথমেই একটি সক্রিয় নাগরিক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। এজন্য সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, সচল মোবাইল নম্বর এবং জমির খতিয়ান বা হোল্ডিং তথ্য দিতে হয়। একবার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সহজেই যেকোনো জমির খাজনা পরিশোধ করা যায়।
অন্যের জমির খাজনা দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি প্রায় একই। প্রথমে পোর্টালে লগইন করে “খতিয়ান/হোল্ডিং যোগ করুন” অপশনে যেতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান নম্বর, মৌজা, জেলা ও অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে যুক্ত করতে হবে। তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলে সেই জমি আপনার প্রোফাইলে যুক্ত হয়ে যাবে।
এরপর খুব সহজেই পেমেন্ট করা যায়। সংশ্লিষ্ট জমি নির্বাচন করে “Pay” অপশনে ক্লিক করলে খাজনার পরিমাণ দেখাবে। এরপর বিকাশ, নগদ, ব্যাংক কার্ড বা অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যাবে। সফলভাবে পেমেন্ট সম্পন্ন হলে সঙ্গে সঙ্গে একটি ডিজিটাল দাখিলা বা রসিদ পাওয়া যায়, যা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজে লাগে।
অনলাইনে অন্যের জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম
ধাপ ১: লগইন করুন
প্রথমে ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে (ldtax.gov.bd) প্রবেশ করে আপনার নাগরিক অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
ধাপ ২: “প্রতিনিধি পেমেন্ট” অপশনে যান
ড্যাশবোর্ড থেকে “প্রতিনিধি পেমেন্ট” মেনুতে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: জমির তথ্য খুঁজুন
জেলা, উপজেলা/থানা, মৌজা, খতিয়ান নম্বর ইত্যাদি সঠিকভাবে নির্বাচন ও পূরণ করে “অনুসন্ধান করুন” বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৪: হোল্ডিং নির্বাচন করুন
সার্চ করার পর যে জমির তথ্য দেখাবে, সেটি যাচাই করে নির্বাচন করুন।
ধাপ ৫: খাজনা তথ্য দেখুন
হোল্ডিং ডিটেইলসে গিয়ে বকেয়া কর, সর্বশেষ পরিশোধের বছর ইত্যাদি দেখে নিন।
ধাপ ৬: পেমেন্টের জন্য আবেদন করুন
“অনুরোধ প্রেরণ” বা পেমেন্ট রিকোয়েস্ট বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৭: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন
প্রতিনিধি হিসেবে পেমেন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন অনুমতিপত্র/প্রমাণ) আপলোড করুন।
ধাপ ৮: আবেদন সাবমিট করুন
সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদন সাবমিট করুন। অনুমোদনের পর পেমেন্ট অপশন চালু হবে।
ধাপ ৯: অনলাইনে পেমেন্ট করুন
বিকাশ, নগদ বা কার্ডের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করুন।
ধাপ ১০: দাখিলা সংগ্রহ করুন
পেমেন্ট সম্পন্ন হলে ডিজিটাল রসিদ (দাখিলা) ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
👉 টিপস:সবসময় সঠিক খতিয়ান ও জমির তথ্য ব্যবহার করুন এবং দাখিলা সংরক্ষণ করতে ভুলবেন না।
বর্তমানে শুধু ওয়েবসাইট নয়, মোবাইল অ্যাপ এবং কল সেন্টারের মাধ্যমেও এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনে ১৬১২২ নম্বরে কল করেও সহায়তা নেওয়া যায়। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেও এই সেবা গ্রহণ করা সম্ভব, যা গ্রামীণ জনগণের জন্য বিশেষভাবে সহায়ক।
তবে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। অন্যের জমির খাজনা দেওয়ার সময় সঠিক খতিয়ান ও মালিকের তথ্য ব্যবহার করা জরুরি। ভুল তথ্য দিলে পেমেন্ট ব্যর্থ হতে পারে বা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া পেমেন্টের পর রসিদ অবশ্যই সংরক্ষণ করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন খাজনা ব্যবস্থা চালুর ফলে এখন আর ভূমি অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমছে এবং সেবার গতি বাড়ছে।
অনলাইনে অন্যের জমির খাজনা দেওয়া এখন আর কঠিন কিছু নয়। সঠিকভাবে নিবন্ধন ও তথ্য যুক্ত করলে আপনি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেই পরিবারের বা আত্মীয়দের জমির খাজনা সহজেই পরিশোধ করতে পারবেন। ডিজিটাল এই সেবা ব্যবহারের মাধ্যমে ঝামেলামুক্ত ও দ্রুত সরকারি সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন-খাজনা দিতে খতিয়ান যুক্ত করার নিয়ম(আপডেট)
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










